‘আব্বা সব শেষ—সোমা আর বাবু পানির ভেতরে’

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পথে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চিকিৎসক আয়েশা আক্তার ও তার সাত মাস বয়সি কন্যা নওয়ারা আক্তার। এ ঘটনায় বেঁচে গেছেন তার স্বামী নুরুজ্জামান ও তিন বছর বয়সি ছেলে আরশান।
স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে চার দিনের জন্য গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে এসেছিলেন এই দম্পতি।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কুমারখালী থেকে বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা। সন্ধ্যার পর দৌলতদিয়া ফেরিতে ওঠার পর হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটে।
নুরুজ্জামানের বাবা জানান, বিকেল ৫টার পর ছেলে ফোন করে বলেন, আব্বা সব শেষ—সোমা আর বাবু পানির ভেতরে। পরে রাতেই বাস থেকে আয়েশা আক্তার ও তার শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে ঢাকার সাভারে তাদের বিয়ে হয়। নুরুজ্জামান ও আয়েশা আক্তার দুজনই চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নুরুজ্জামান মিরপুরে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং আয়েশা আক্তার সাভারে চিকিৎসাসেবা দিতেন। তাদের দুই সন্তান ছিল।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে তারা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতেন। তাদের এই মানবিক উদ্যোগে উপকৃত হতেন এলাকার অসচ্ছল মানুষ।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আয়েশা আক্তার ও তার কন্যাকে ঢাকার সাভারে তার বাবার বাড়িতে দাফন করা হবে।
নুরুজ্জামান ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে বাসডুবির ঘটনায় মোট ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে, বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পাড়ি দিতে অপেক্ষমাণ ঢাকাগামী যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। সব মিলিয়ে বাসটি কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে কাউন্টার মাস্টার জানিয়েছেন।