logo

কোটি টাকা রাজস্ব আসা পশুর হাট বসে কাদাপানিতে

কোটি টাকা রাজস্ব আসা পশুর হাট বসে কাদাপানিতে

কুড়িগ্রামের সবচেয়ে বড় পশুরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর। হাটটি সরকারের বিপুল রাজস্ব আয়ের উৎস হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই এই হাটে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান কাদায় চরম দুর্ভোগে পড়েন ক্রেতা-বিক্রেতারা। কোটি টাকার বেচাকেনা চলে কাদা পানিতেই।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে হাঁটু সমান কাদা। সেই কাদার মধ্যেই গবাদিপশু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিক্রেতারা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাদায় দাঁড়িয়ে থেকে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন চর্মরোগে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনেক ক্রেতাই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এই হাট থেকে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বসে যাত্রাপুর পশুর হাট। শুধু কুড়িগ্রাম নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও আসেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। সরকার প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব পায় এই হাট থেকে। চলতি বছরে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

তবে এত রাজস্ব আয়ের পরও হাটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। হাটের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, এই হাটে প্রায় সময় কাদা থাকে। পানিও খুব নোংরা হয়ে থাকে। হাঁটাচলা করা যায় না। বাইরের ব্যবসায়ীরাও আসেন না।

আরেক গরু বিক্রেতা নজু মিয়া বলেন, এত বড় একটি হাট, এখান থেকে সরকার বছরে কোটি টাকা নিয়ে যায়। কিন্তু আমরা ব্যবসায়ীরা কাদাপানির জন্য ক্রেতা পাই না। বাইরের লোকজন কাদাপানি দেখে হাটে আসে না। আমাদের লোকসান হচ্ছে।

হাটের ইজারাদার রহিম উদ্দিন হায়দার রিপন বলেন, কুড়িগ্রামের সবচেয়ে বড় পশুর হাট যাত্রাপুর। এখানে একটু বৃষ্টি হলে হাঁটু সমান পানি জমে থাকে। দূর-দূরান্তের লোকজন হাটে এসে ফিরে যায়। আমরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাই, গরুর হাটটির দ্রুত পানি  নিষ্কাশন ব্যবস্থা করুক।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের সদর উপজেলায় ২২টি হাট রয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হাট যাত্রাপুর। এই হাটটির অবকাঠামো উন্নয়নসহ একটি কসাইখানা নির্মাণের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গরুর হাটটির রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নাতার জন্য ইজারাদারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।