সুন্দরবন রক্ষায় এক বছরে ২৭৪ মামলা, আটক ৪৯৪

বাংলাদেশের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে জনবল সংকটের মধ্যেই বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টহল ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। অনুমোদিত জনবলের এক-তৃতীয়াংশ দিয়ে বিশাল এই বনাঞ্চল রক্ষা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হলেও অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে সাম্প্রতিক সময়ে মামলা, জব্দ ও আসামি আটকের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত খুলনা রেঞ্জ এলাকায় অভয়ারণ্যে ৩৩টি মামলা হয়েছে। গত বছর নিষিদ্ধ এলাকায় মোট ৮৮টি মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত ১৭৪ জন আসামি আটক হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযানের ফলে বনজ সম্পদ লুট, অবৈধ অনুপ্রবেশ, হরিণ শিকার ও কাঠ পাচারের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। একই সময়ে ১২২টি নৌকা ও ১৬টি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের অভয়ারণ্যের গুরুত্বপূর্ণ চারটি পয়েন্ট এই রেঞ্জের আওতায়। এসব এলাকায় অবৈধ মাছ শিকারি ও বন্যপ্রাণী শিকারিদের তৎপরতা বেশি থাকায় সীমিত জনবল ও নৌযান দিয়েই অভিযান চালাতে হচ্ছে। সুন্দরবনে অপরাধ দমনে বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এটি চলমান রাখা হবে।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ২৭৪টি মামলা হয়েছে। ওই সময়ে ৪৯৪ জন আসামি আটক এবং ৪৫ জন পলাতক রয়েছেন। পাশাপাশি ১৯১টি নৌকা, ৩৪টি ট্রলার, ১৩০৫ ঘনফুট কাঠ, ১৫৫০ কেজি মাছ, ১৫২৯ কেজি কাঁকড়া এবং ৩৯ কেজি মধু। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ হরিণ ধরার ফাঁদ জব্দ, মাংস উদ্ধার, অবৈধ ২৪০টি বিষের বোতল জালসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, জনবল সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নীলকমল টহল ফাঁড়ির এক কর্মী জানান, তাদের আওতায় প্রায় ২০০টি খাল রয়েছে এবং বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় টহল দিতে হয়। কিন্তু দ্রুতগতির ভারী নৌযানের অভাব রয়েছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বনপ্রহরী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে অপরাধ দমনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে এত সংকটের মধ্যে একটি বিভাগ কীভাবে চলছে, ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের উচিত সেটা নিয়ে অনুসন্ধান করা এবং সেসব সমস্যা সমাধানের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।
বন বিভাগের হিসাবে, ১১৯০টি অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে ৩২৩টি শূন্য রয়েছে। বিশেষ করে ফরেস্ট রেঞ্জার, ডেপুটি রেঞ্জার, ফরেস্টার, সারেং, নৌকাচালক ও ইঞ্জিনম্যান পদে ঘাটতি সবচেয়ে বেশি।
এ বিষয়ে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, জনবল ও নৌযান সংকটের কারণে নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম চেয়ে মন্ত্রণালয়ে বারবার আবেদন করা হলেও চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। তবুও সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।