নোয়াখালীতে মাদ্রাসার মাঠে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে হত্যা, পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদ্রাসার মাঠে ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মোহাম্মদ আকাশ উদ্দিনকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১। এ নিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এসআরবি জানিয়েছে, আকাশ এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি।
এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুন্ডু আকাশ উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার আকাশকে নোয়াখালী আদালতে পাঠানো হবে। জবানবন্দিতে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১ একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর নোয়াখালী সদর উপজেলায় মাদ্রাসার মাঠে ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল হোসেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার সাবেক স্ত্রী তানিয়া (৪০), শাশুড়ি ও শ্যালকের বিরুদ্ধে।
নিহত কামাল হোসেন সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের খলিলুর রহমানের ছেলে। তার সাবেক স্ত্রী তানিয়া সদর উপজেলার পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের আমজাদ হাজী মসজিদ বাড়ির আমির হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুয়া খেলা নিয়ে কামালের সঙ্গে তানিয়ার পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জেরে পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তবে বিচ্ছেদের পরও কামাল তার সাবেক স্ত্রীকে বিরক্ত করতেন বলে জানা গেছে। কিছুদিন আগে কামাল তার মেয়েকে দেখতে সাবেক স্ত্রীর বাড়িতে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে সেখানে থাকতে দেননি। এরপর তিনি শ্বশুরবাড়ির পাশের মোহাম্মদিয়া নুরানী মাদ্রাসার মাঠে ঘুমান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মাদ্রাসার মাঠে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কামাল ইট দিয়ে তার সাবেক শ্বশুর আমির হোসেনকে মারধর করে আহত করেন। এ ঘটনার জেরে পরদিন ১১ অক্টোবর ঢাকা থেকে আসেন কামালের শ্যালক আকাশ। ওই রাত ১১টার দিকে মাদ্রাসার মাঠে ঘুমন্ত কামালের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার পেটের বাঁ পাশে, পিঠে, মাথায়, হাতে ও বাঁ উরুতে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।