ইউনিয়ন পরিষদে রাতভর ধর্ষণচেষ্টার শালিস, দুপুরে উপস্থিত পুলিশ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে একটি ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় রাতভর শালিস-বৈঠক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শালিসে হোসেন আলী নামে এক যুবককে আটক রেখে দফায় দফায় মারধর করা হয়, জরিমানা করা হয় ৪০ হাজার টাকা।
এ অবস্থায় ২৪ ঘণ্টা পর আজ সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে দ্বিতীয় দফা শালিস চলাকালে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুম থেকে হোসেন আলীকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার হোসেন আলীর বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার হোসেন আলী তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তেপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, রোববার (১ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে হোসেন আলী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন হোসেন আলীকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য বাবুল হোসেনের জিম্মায় দেন। পরে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আটক রাখা হয়।
ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের নেতৃত্বে পরিষদের হলরুমে রাতভর শালিস-বৈঠক হয়। শালিসে অভিযুক্ত হোসেন আলীকে দফায় দফায় মারধর করে জরিমানার নামে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনসহ তার সঙ্গে থাকা লোকজন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান কামরুলের নির্দেশে অভিযুক্ত হোসেন আলীকে পরিষদে এনে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। সোমবার চেয়ারম্যান কামরুল নিজেও দ্বিতীয় দফা চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। জরিমানার টাকা না দেওয়ায় আপস-নিষ্পত্তি ভেস্তে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান কামরুল বলেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার বাবুল বিষয়টি নিয়ে শালিস করেছেন। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় শালিস করতে পারেন কি না জানতে চাইলে প্রসঙ্গটি তিনি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা বলেন, ফোনে জানতে পেরে পরিষদ থেকে অভিযুক্ত হোসেন আলীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে হোসেন আলীকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।