Advertisement

নিরাপত্তা ত্রুটির মামলার এক মাস পরই ফেরদৌস স্টিলে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
নিরাপত্তা ত্রুটির মামলার এক মাস পরই ফেরদৌস স্টিলে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু
ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ও রিসাইক্লিং কারখানা। ছবি : সংগৃহীত

নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে এক মাস আগেই চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ‘ফেরদৌস করপোরেশনের’ বিরুদ্ধে মামলা করেছিল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)। তবে সেই সতর্কতায় কান না দেওয়ায় অবশেষে প্রাণ গেল ৯ জন শ্রমিকের।

Advertisement

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে অবস্থিত ‘ফেরদৌস স্টিল’-এর শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

ডিআইএফইর প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়ার্ডে নোঙর করা একটি পুরোনো এলএনজি জাহাজের ভেতরে লোহা কাটার কাজ করছিলেন শ্রমিকেরা। হঠাৎ ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। অক্সিজেনের তীব্র সংকটে শ্বাস নিতে না পেরে অনেকে সেখানেই জ্ঞান হারান। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ৫ জন শ্রমিক। পরবর্তীকালে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও ৪ জন। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ ও আহত অন্তত ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিককে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ডিআইএফইর একটি দল ইয়ার্ড পরিদর্শনে গেলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও স্থানীয় জনতা তাদের ওপর চড়াও হয়। এতে অধিদপ্তরের দুজন শ্রম পরিদর্শক গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে ইয়ার্ডে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। স্থানীয়দের দাবি, জাহাজের ভেতরে আরও প্রায় ১৫ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুর্ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ডিআইএফই চট্টগ্রাম শাখার উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান জানান, নিয়মিত পরিদর্শনে কারখানাটিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। এরপর চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রথম নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মে ও জুন মাসে আরও দুই দফা সতর্ক করা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত ১৫ জুলাই বাধ্য হয়ে মামলা দায়ের করা হয়।

স্থানীয় শ্রমিক নেতা ফজলুর কবির মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস বা বিপজ্জনক বর্জ্য আছে কি না, তা পরীক্ষা না করেই শ্রমিকদের জাহাজের গভীরে নামানো হয়েছে। মালিকপক্ষের চরম অবহেলার কারণেই এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে গেল। তাছাড়া ছুটির দিনে কেন এত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছিল, তারও বিচার হওয়া প্রয়োজন।

শিপইয়ার্ডটির জাহাজ কাটার অনুমতি ছিল কি না—জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুল রহমান জানান, পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াও বিস্ফোরক পরিদপ্তরসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে (কর্ডন করে) রাখা হওয়ায় তাদের পরিদর্শকেরা তাৎক্ষণিকভাবে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। তদন্ত শেষেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে।