logo

রাজবাড়ীতে রোহান হত্যার রহস্য উদঘাটন পুলিশের, আলামতসহ গ্রেপ্তার ৩

রাজবাড়ীতে রোহান হত্যার রহস্য উদঘাটন পুলিশের, আলামতসহ গ্রেপ্তার ৩
গ্রেপ্তার ফিরোজ সরদার বাবু, মো. রিয়াজ সরদার ও মো. শরীফ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান ওরফে রোহান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা, কালো টি-শার্ট ও নিহতের স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ দল সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

পরে দুপুর ১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দাদসী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মো. রিয়াজ সরদার (২৩) ও একই ইউনিয়নের সমেসপুর এলাকার মো. শরীফ (২৭)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরদিন ৬ অক্টোবর তার পরিবারের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

এরপর গত ৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রোহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এ ঘটনায় রোহানের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। ৯ অক্টোবর মামলাটি ১৭ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাতে জানানো হয়, জমিজমা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রোহানকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠা ঠেকাতে পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দি করে বালুভর্তি বস্তা বেঁধে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেখানো মতে, ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে ছুরি ও গামছা এবং মো. রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে একটি কালো টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে থেকে রোহানের পরিহিত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ এসব আলামত জব্দ করেছে।

পুলিশ জানায়, রোহানের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই সদর থানা পুলিশ ও ডিবি যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের এসব বক্তব্য তদন্তসংশ্লিষ্ট প্রাথমিক তথ্য, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।