logo
Advertisement

বাসি তরকারি খেয়ে গৃহবধূর মৃত্যু, মেয়ে আশঙ্কাজনক

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বগুড়া
বাসি তরকারি খেয়ে গৃহবধূর মৃত্যু, মেয়ে আশঙ্কাজনক
গৃহবধূর মৃত্যুর খবরে ভিড় জমিয়েছেন এলাকাবাসী। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বাসি পাঙাশ মাছের তরকারি খেয়ে শাহীনুর খাতুন (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। একই খাবার খেয়ে তার স্বামী, মেয়ে ও জামাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

Advertisement

সোমবার (২৫ আগস্ট) রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহীনুর খাতুনের মৃত্যু হয়। তিনি ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের মরিচতলা গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, শনিবার বিকেলে সাইফুল ইসলাম স্থানীয় মরিচতলা বাজার থেকে পাঙাশ মাছ কিনে বাড়িতে আনেন। ওই রাতেই মাছটি রান্না করে পরিবারের চার সদস্য—সাইফুল ইসলাম, তার স্ত্রী শাহীনুর খাতুন, মেয়ে সাথী খাতুন (২২) ও জামাই সুমন হাসান (২৬) নৈশভোজে খান। খাবারের পর অবশিষ্ট তরকারিটুকু রান্নাঘরে রেখে দেওয়া হয়।

পরদিন রোববার সকালে আগের রাতের অবশিষ্ট তরকারিটি গরম করে তারা চারজন ফের ভাতের সঙ্গে গ্রহণ করেন। স্বজনদের অভিযোগ, বাসি খাবার খাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর থেকেই তারা সবাই অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। প্রথমে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের কাছে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকালে তাদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে শাহীনুর খাতুনের মৃত্যু হয়। তার স্বামী সাইফুল ইসলাম ও জামাই সুমন হাসান সুস্থ হয়ে উঠলেও মেয়ে সাথী খাতুনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাজ্জাদ কাদির জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে একই পরিবারের চারজন হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরই উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় এক নারীর মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। ফলে এ ঘটনায় এখনো কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।