মিটার চুরি করে চিরকুটে লিখে যেত বিকাশ নম্বর, গ্রেপ্তার ২

সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই শিল্পাঞ্চলে কারখানার বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে চিরকুটে বিকাশ নম্বর লিখে চাঁদাবাজির অভিযোগে চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া (পিপিএম) এসব তথ্য জানান। এর আগে শুক্রবার বিকেলে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী সংলগ্ন ঘোড়াপীর মাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানার পাথরাইল গ্রামের কাইয়ুম আলীর ছেলে মো. সবুজ মিয়া ওরফে মিটার সবুজ (২৫) এবং একই থানার রেহাই পুকুরিয়া গ্রামের লিটন মোল্লার ছেলে মারুফ মোল্লা (৩৫)।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি আশপাশের কারখানাগুলোর বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে নিকটস্থ স্থানে লুকিয়ে রাখত। এরপর মিটারের স্থানে পলিথিনে মোড়ানো চিরকুটে বিকাশ নম্বর রেখে আসত। কারখানা কর্তৃপক্ষ ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে চড়া টাকা দাবি করা হতো। অর্থ পাওয়ার পর মিটারের সন্ধান দেওয়া হতো।
চলতি বছরের ৫ আগস্ট ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকার দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের পল্লী বিদ্যুতের মিটার চুরির পর দায়ের হওয়া মামলার সূত্র ধরে ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে প্রযুক্তিগত সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে আশুলিয়ার পলাশবাড়ীতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আসামিরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্ঘটনায় পড়ে আহত হন। তাদের সামলাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তাও আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই চুরি, চাঁদাবাজি, দস্যুতা ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। সবুজ মিয়ার নামে ছয়টি এবং মারুফ মোল্লার নামে ১০টি মামলা রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ শিল্পাঞ্চল থেকে ১৫০ থেকে ২০০টি এবং মারুফ ৬০ থেকে ৭০টি মিটার চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি। চক্রটি একমি ল্যাবরেটরিজ, বার্জার পেইন্টস, স্টারলিং লন্ড্রি, ইফাদ অটোস, পলমল গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মিটার চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল।
অভিযানের সময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে একটি চোরাই হেক্সিং মিটার, দুটি মোবাইল ফোন এবং একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করে।