logo

শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে সারজিসের স্লোগান নিয়ে বিতর্ক

শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে সারজিসের স্লোগান নিয়ে বিতর্ক

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক স্লোগান দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। মাজার এলাকায় তার স্লোগান দেওয়া নিয়ে সিলেটজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে রেওয়াজ, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা সিলেট সফরে এসে প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে থাকেন। সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে বিরোধী দলের নেতারাও এই রীতি অনুসরণ করেন। তবে সারজিস আলম সেই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) এনসিপির বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে অংশ নিতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সিলেটে পৌঁছান।

দিনে রিকশায় করে নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ান তারা। পরে অভিজাত সেন্টারে আয়োজিত ইফতার মাহফিল শেষে রাতে তারা শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে তারাবির নামাজ আদায় করতে যান। এ সময় নেতাকর্মীরা মাজারে ভিড় করেন।

একপর্যায়ে মাজারের নারী এবাদতখানার ছাদে উঠে সারজিস আলম স্লোগান শুরু করেন দেন। ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’, ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘যুগে যুগে লড়ে যাব, আমরা সবাই হাদি হব’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’—তার এমন নানা স্লোগানে সুর মেলান নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই একে সিলেটের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন।

সিলেট জেলা বিএনপির উপ-দপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম ফেসবুকে লেখেন, দরগাহ মসজিদের পবিত্র প্রাঙ্গণে পরিকল্পিতভাবে স্লোগান দিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করা কোনো রাজনীতি বা শিষ্টাচারের পরিচয় হতে পারে না। তিনি একে সামাজিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন।

নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম ফেসবুকে লেখেন, সুলতানুল বাঙাল হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের সময় অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল দলীয় স্লোগান দিয়ে মাজার এলাকার আদব নষ্ট করেনি। নারী ইবাদতখানার ওপর উঠে স্লোগান দেওয়া সুফি দরগার আদবের খেলাফ।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার জন্ম সিলেটে, পূর্বপুরুষ থেকে সবার এই দরগাহে যাতায়াত। রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেও বিভিন্ন দরগাহে যেতে হয়। কখনো এই রকম কার্যক্রম দেখিনি। বরং এই কম্পাউন্ডে ঢোকার পর একজন অলির মাজার হিসেবে আমরা আদব-কায়দা মেনে চলতে হয়, উচ্চস্বরে কথা বলি না।

তিনি বলেন, গতকাল (বুধবার রাতে) যা ঘটেছে বা যারা ঘটিয়েছে, জ্ঞাত অথবা অজ্ঞাতসারে হোক, এটা অপরাধ। ধর্মীয় রীতিনীতি ও শালীনতাবিবর্জিত কাজ। ভবিষ্যতে যদি তারা কোনো জেলা সফর করেন, তারা যেন সেই জেলার বা এলাকার ইতিহাস, রীতিনীতি জেনে তারপর তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এনসিপি সিলেট মহানগরের সদস্য সচিব কিবরিয়া সরওয়ার বলেন, গতকাল মাজার প্রাঙ্গণে প্রচুর জেন-জি জড়ো হয়েছিলেন। নেতাদের দেখে তারা একের পর এক স্লোগান দিতে দেন। পরে সারজিস আলমও এতে যোগ দেন। এতে মাজারের ভাবগাম্ভীর্যতা বিনষ্ট হয়নি। অথচ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এর সমালোচনা করা হচ্ছে।