logo
Advertisement

মাগুরা/আট বছরেও শেষ হয়নি ৭০ কোটির আইটি পার্ক

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,মাগুরা
আট বছরেও শেষ হয়নি ৭০ কোটির আইটি পার্ক
দেড় বছরেরকাজ আট বছরেও না হওয়ায় ৭০ কোটি টাকার আইটি পার্ক এখন শেয়াল-সাপের আস্তানা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মাগুরার যুবসমাজকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল ‘আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার’ নির্মাণকাজ। দেড় বছরের মধ্যে ৭০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পার হয়েছে আট বছর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি এখনো প্রায় ৬৪ শতাংশ। সবশেষ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলেও সেই সময়সীমাও পেরিয়ে গেছে। নির্মাণকাজের বিপরীতে প্রায় ৮০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতির সঙ্গে বিল পরিশোধের এই হিসাব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন ছয়তলা গোলাকৃতির দৃষ্টিনন্দন ভবনটি হওয়ার কথা ছিল জেলার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে দেশের আটটি জেলার সঙ্গে মাগুরাতেও ‘আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। পরের বছর ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘লিটন ট্রেডার্স’ নির্মাণকাজ শুরু করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। অর্থাৎ প্রায় দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছরেও প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন ভবন ও পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে আগাছা-জঙ্গলে ভরে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় অনেকটা পরিত্যক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলাতেও সেখানে শিয়াল, সাপ ও বেজির আনাগোনা দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘসূত্রতার কারণে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির যে উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল, সেটিও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় এক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, প্রকল্পটিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তার দাবি, ঠিকাদারসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে কাজের বিপরীতে প্রায় ৮০ শতাংশ বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ২০১৮ সালে কাজ শুরু হয়েছে, এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। যারা দায়িত্ব নিয়েছে, মনে হয় তারা দায়িত্বে গাফিলতি করেছে। স্টেডিয়াম পাড়ার বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করা হোক।

মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. মোতাকাব্বির আহমেদ বলেন, এই ভবনটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইটি পার্ক করা হচ্ছে। এটাকে দ্রুত শেষ করে কর্মসংস্থান করা হবে।

বিষয় :