মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষ, পাঁচ দিন পর আহত ব্যক্তির মৃত্যু

বগুড়ার আদমদীঘিতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হওয়ার পাঁচ দিন পর আইয়ুব আলী (৬৫) নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আইয়ুব আলী উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের সান্দিড়া গ্রামের সরদারপাড়ার মৃত সোলায়মান আলীর ছেলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে সান্দিড়া গ্রামের সরদারপাড়া এলাকায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের আরিফুল ইসলাম জনি ক্ষিপ্ত হয়ে আইয়ুব আলীর ভাই ফারুক হোসেনের স্ত্রী আলপোনা বেগমের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে আলপোনা বেগমের স্বামী ফারুক হোসেন ও তার বড় ভাই আইয়ুব আলী সেখানে যান। এ সময় মনোয়ার হোসেনের ধানখেতসংলগ্ন রাস্তায় পৌঁছালে আরিফুল ইসলাম জনি তাদের বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
পরে স্বজনেরা তাদের উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আইয়ুব আলীর অবস্থার অবনতি দেখে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঢাকায় চিকিৎসা শেষে গত ৩০ আগস্ট আইয়ুব আলীকে পুনরায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট এ ঘটনায় আইয়ুব আলীর ভাই ফারুকের স্ত্রী আলপোনা বেগম বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় একই গ্রামের আরিফুল ইসলাম জনি (৪০), তার মা আফরোজা (৬০) এবং করজবাড়ী গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে শাহ আলমকে (৫৫) আসামি করা হয়।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, মারপিটের ঘটনায় থানায় আগেই একটি মামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত আইয়ুব আলী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় বিষয়টি তদন্ত করে মামলায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



