হাওরে আবারও বৃষ্টি, নতুন দুর্ভোগে কৃষকরা

বৈশাখের শুরু থেকেই টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের প্রায় সবকটি হাওরেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে তলিয়ে গেছে অনেক ধান। এরপর গেল ৮-৯ দিন রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকায় স্বস্তি ফিরেছিল হাওরপাড়ে। আকাশে রোদ থাকায় ধান কাটা, মাড়াই, ধান ও খড় শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
সংকটের মধ্যেও স্বস্তিতে কাজ করছিলেন বিভিন্ন হাওরপাড়ের কৃষাণ-কৃষাণীরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত থেকে সুনামগঞ্জে আবারও ভারী বৃষ্টি-বজ্রপাত শুরু হয়েছে। তাই আজ শুক্রবার (১৫ মে) হাওরে ধান কাটা মড়াই ও শুকানোর কাজ বন্ধ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ১৮ মে পর্যন্ত সুনামগঞ্জে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আগাম বন্যা বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টায়) ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তাই হাওরের পাকা ধান দ্রুত কেটে তোলার জন্য কৃষকদের অনুরোধ জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা কৃষি বিভাগ।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩ সেন্টিমিটার। আজ সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১.৭২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ৪.৩৩ সেন্টিমিটার প্রবাহিত হয়েছে। বৌলাই, রক্তি, যাদুকাটা, পাটলাই নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এখনও হাওরের কিছু কিছু এলাকায় শ্রমিক সংকট ও ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর বাকি রয়েছে বলে জানা গেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মো. মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জ অঞ্চলে তিন দিন বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ১৮ মে পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা আছে। তবে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাকা ধান হাওর থেকে কেটে তোলার জন্য আমরা কৃষকদের অনুরোধ করছি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর বোরো জমি চাষাবাদ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মোট ধান কাটা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৮ হেক্টর। হাওরে ধান কাটা হয়েছে ৮৯ ভাগ। শিলাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত জমির পরিমাণ ২০ হাজার ৫৫০ হেক্টর।
জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরপাড়ের ফেনারবাঁক গ্রামের মিজবাহুল কবীর চৌধুরী বলেন, ২৮ কিয়ার জমির মধ্যে ৮ কিয়ার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ২০ কিয়ার জমির ধান কাটতে পেরেছি। কয়েকদিন রোদ থাকায় প্রায় দেড়শ মণ ধান শুকিয়েছি। আরও ১০০ মণ ধান হাওরে আছে, রোদ না থাকায় ধান শুকাতে পারিনি। রোদ না পেলে ধান নষ্ট হতে পারে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, হাওরের বোরো ধান কাটা শেষ পর্যায়ে। হাওরে ৮৯ ভাগ ও নন হাওরে ৭৯ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। আবহাওয়া আর কয়েক দিন কৃষকদের অনুকূলে থাকলে হাওরের ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ শেষ হয়ে যাবে।
