logo

ধানের শীষে সিল দেওয়া ব্যালট উদ্ধার, ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুর

ধানের শীষে সিল দেওয়া ব্যালট উদ্ধার, ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুর

রংপুর-৪ আসনে একটি ভোটকেন্দ্র থেকে ধানের শীষে সিল দেওয়া দুটি ব্যালট এবং গণভোটের চারটি ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে সেখানে আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহায়তায় ওই স্থান ত্যাগ করেন ইউএনও। যাওয়ার পথে তার গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার লিখিত তথ্যানুযায়ী, ধানের শীষের দুটি ব্যালটে নির্বাচন কমিশনের স্বাক্ষর আছে। একটি ‘হ্যাঁ’ ভোটের ও ‘না’ ভোটের দুটি ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে প্রত্যেকটি ব্যালটের বিপরীত পাশে নির্বাচন কমিশনের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ভোটের দিনই গণনা শেষ হওয়ার পরও আবার ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে গণনায় গরমিল পাওয়া গেছে। ধানের শীষের প্রার্থী সাইফুল ইসলামকে হারানোর পরিকল্পনা থেকে এ ধরনের কাজ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের। 

স্থানীয় ফজলু মিয়া বলেন, ওই স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী ব্যালট পায়। তারপর এলাকার লোকজন দেখে ইউএনওকে জানান। পরে ইউএনও ঘটনাস্থলে এলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। শেষে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও পুলিশের সহায়তায় তিনি বের হয়ে যান।

হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ভোটার ৩ হাজার ৩৬৯, কাস্ট হয়েছে ২৪০২টি। ধানের শীষ পেয়েছে ১ হাজার ৫৩২ ভোট আর দাঁড়িপাল্লা ৮৩২। তবে সাতটি ব্যালট পাওয়া যায়নি বলে জানান প্রিসাইডিং অফিসার।

রংপুর-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। 

প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা শাহ আব্দুর রউফ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. রাহিদুজ্জামান বলেন, সব এজেন্টের সামনে বাক্স দেখিয়ে ভোট শুরু করি এবং সবার সামনেই সিল করি। সবার সম্মতিক্রমে ব্যালট বাক্স ওপেন করি। ব্যালট গণনা করেই রেজাল্টসিট রেডি করে তাদের হাতে দিই। ব্যালট বাক্সের বাইরে আলাদা ব্যালট পাওয়া গেলে আমাদের করার কিছু নেই।

তবে এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও পপি খাতুন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।