logo

‘ধানের আগে জীবন’ বজ্রপাতের ভয়ে মিলছে না শ্রমিক

‘ধানের আগে জীবন’ বজ্রপাতের ভয়ে মিলছে না শ্রমিক

বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিতে গাইবান্ধার ধানচাষি ও কৃষকরা৷ কয়েক দিন পরেই যে ধানগুলো ঘরে তোলার কথা সেই ধানক্ষেতে এখন হাঁটুপানি। দুদিনের টানা বৃষ্টিতে যে কোনো সময় তলিয়ে যেতে পারে হাজার হাজার বিঘা জমির ধানক্ষেত। তবে বজ্রপাতের ভয়ে মিলছে না কৃষিশ্রমিক, তাই বিপাকে ধানচাষিদের স্বপ্ন পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে৷

কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে প্রাথমিক জরিপে ৩৫৬ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে৷ প্রতিদিনই ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে, তাই প্রতিদিনই ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করেছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে জেলার ৭ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় ধান পাকার আগেই হাঁটুপানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৷ অনেক স্থানে বাতাসে ধানের শীষগুলো শুয়ে পড়েছে৷ ফলে অপরিপক্ব এই ধান পাকার আগেই নষ্ট হচ্ছে৷ ধান পাকলেও মিলছে না শ্রমিক কারণ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বাড়ির বাইরে গিয়ে কাজ করতে বজ্রপাতের ভয় হচ্ছে বলে জানান ধান চাষিরা৷ 

সদর উপজেলার বাদিয়াখালি ইউনিয়ন ধানচাষি মনজু মিয়া জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আমার ৫ বিঘা জমির ধানক্ষেতে হাঁটুপানি হয়েছে। ফলে এই জমির ধানের গাছগুলো আস্তে আস্তে পচে যাচ্ছে৷ এতে ফলন ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সদর উপজেলার একই ইউনিয়নে কৃষক কলিম উদ্দিন শেখ জানান, আমি প্রতি বছর আলাই নদীর তীরে ৩ বিঘা জমিতে ধান চাষ করি৷ এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বৃষ্টিতে ধান ক্ষেতটি তলিয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগময় আবহাওয়া, তাই ধান কাটারও পরিবেশ পাচ্ছি না৷ 

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সোনাইডাঙ্গা গ্রামের কৃষক ময়েন উদ্দিন আকন্দ জানান, আবহাওয়া এতটাই খারাপ যে বাড়ির বাইরে বের হতেও ভয় লাগে, যে কোনো সময় বজ্রপাত হতে পারে৷ তাই ধান কাটার জন্য ক্ষেতে যেতে পারছি না৷ ধানের আগে জীবন৷ 

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কৃষিশ্রমিক কাদের আলী জানান, আমরা কৃষিকাজ করতে মাঠে যেতে ভয় পাচ্ছি কারণ ছিপ ছিপ বৃষ্টি ৷ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন যে কোনো সময় বজ্রপাত হয়৷ কাজের চেয়ে জীবনের দাম বেশি৷

সাঘাটা উপজেলার বাটি কৃষক শামসুল আলম জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আমাদের জমির ধানক্ষেতে পানি হয়েছে৷ মিলছে না কৃষিশ্রমিক তাই নিজের ধার নিজেকেই কাটতে হচ্ছে। 

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. রোস্তম আলী এশিয়া পোস্টকে জানান, এ বছর বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর। ইতোমধ্যে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়,  গাইবান্ধার ৭ উপজেলায় গত ৭ দিনের বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে ৩৫৬ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে৷ তার মধ্যে ২১২ হেক্টর বোরো ধান, ৮ হেক্টর আউস বীজতলা, ১৯.৫ হেক্টর ভুট্টা, ৮১ হেক্টর শাকসবজি ও ৫ হেক্টর কলাক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসল দুর্যোগের কবলে ক্ষতির হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে বজ্রপাতে জেলার সুন্দরগঞ্জে শিশুসহ ৩ জন সাঘাটায় একজন ও ফুলছড়িতে একজনসহ ৫ জন মারা গেছে।