চাকমা পরিবারের উদ্যোগে খাগড়াছড়িতে প্রথমবার দুর্গাপূজা

ধর্মীয় বিশ্বাস, ভক্তি-শ্রদ্ধা ও দৈব নির্দেশে সনাতন ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে খাগড়াছড়িতে প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগত উদ্যোগে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করেছে চাকমা সম্প্রদায়ের একটি পরিবার। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নারিকেল বাগান এলাকার বাসিন্দা লিটন চাকমার স্ত্রী সুক্তা চাকমা এ পূজার আয়োজন করেছেন। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দেখতে এবং দেবী দুর্গার আশীর্বাদ নিতে ভিড় করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আয়োজক পরিবারের পক্ষ থেকে সাত্ত্বিকভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও রীতিনীতি মেনে পূজা করা হচ্ছে। দেবী দুর্গা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের নন, তিনি জগতের সবার। এমন বিশ্বাস থেকেই সবার মঙ্গল কামনায় এ পূজার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
পূজা দেখতে আসা দর্শনার্থী পূজা রায় বলেন, শুনেছি, যারা এ পূজার আয়োজন করেছেন, তারা ভিন্ন ধর্মের। তাই পূজা দেখতে এসেছি। এখানে এসে দেবী দুর্গার দর্শন নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি। মা যেন সবার মঙ্গল করেন, পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় রাখেন এবং পৃথিবীর সব মানুষের কল্যাণ করেন—এটাই মায়ের কাছে আমার প্রার্থনা।
আরেক দর্শনার্থী সিক্ষিত ত্রিপুরা বলেন, তারা ভিন্ন ধর্মের হলেও সাত্ত্বিকভাবে দুর্গাপূজা করছেন। দেখে খুব ভালো লাগল। দেবী দুর্গা সবার, মায়ের কাছে কেউ ছোট-বড় নন। ভক্তি ও বিশ্বাস নিয়ে যে কেউ মায়ের আশীর্বাদ চাইতে পারেন। এ পূজার আয়োজন আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। মায়ের কৃপায় সবার জীবন সুন্দর ও মঙ্গলময় হোক—এটাই মায়ের কাছে চেয়েছি।
পুরোহিত সমির আচার্য্য বলেন, শাস্ত্রীয় বিধান ও সনাতন ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে সাত্ত্বিকভাবে পূজা-অর্চনা করা হচ্ছে। ভক্তি, শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেবীর আরাধনা করাই পূজার মূল উদ্দেশ্য। আমরা দেবীর কাছে সবার মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।
আয়োজক পরিবারের সদস্য সবিতা চাকমা বলেন, বিশ্বাস, ভক্তি-শ্রদ্ধা এবং দৈব নির্দেশের প্রতি আস্থা থেকেই আমরা এ পূজার আয়োজন করেছি। দেবী দুর্গার প্রতি আমাদের গভীর বিশ্বাস ও ভক্তি রয়েছে। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনেই পূজার সব আয়োজন করা হয়েছে। মা যেন আমাদের পরিবারসহ সমাজের সব মানুষের মঙ্গল করেন, এটাই আমাদের প্রার্থনা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি অশোক মজুমদার বলেন, নিত্য চাকমা নামের পরিবারের সদস্যের ভক্তি ও নির্দেশনায় এ পূজার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজক পরিবার অন্য ধর্মের হলেও নিজস্ব উদ্যোগে প্রথমবারের মতো শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করেছে। তাদের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। দেবী দুর্গা সবার মঙ্গল করুন, এটাই আমাদের কামনা। পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা তাদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।