logo

মাদক বিক্রি না করায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা

মাদক বিক্রি না করায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা

একসময় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকলেও অন্ধকার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিলেন রাজু শেখ (৩৮)। মাদক বিক্রি না করায় তাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে। সোমবার (২ মার্চ) রাতে ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষ্মীপুর স্টেশন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রাজু শেখ শহরের লক্ষ্মীপুর রেলবস্তির কুটিবাড়ি এলাকার বাবলু শেখের ছেলে। তিনি ফরিদপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষ্মীপুর স্টেশন বাজার এলাকায় রাজু শেখকে কুপিয়ে ফেলে রাখা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।

পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভায় কাজের পাশাপাশি রাজু একসময় মাদক কারবারে জড়িত ছিলেন। তবে শিশু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সম্প্রতি ওই পথ থেকে সরে আসেন। এরপর থেকে স্থানীয় একটি চক্র তাকে পুনরায় মাদক বিক্রিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। মাদক বিক্রি না করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। সম্প্রতি এক অভিযানে কয়েকজন মাদক কারবারি আটক হওয়ার ঘটনায় রাজুকে সন্দেহ করা হয়।

নিহত রাজু শেখের মা ছবি খাতুন বলেন, স্থানীয় মাদক কারবারি শিল্পী বেগম ও তার মেয়ে মহুয়া আক্তার ওরফে মেহু সম্প্রতি রাজুকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যান। এরপর সোমবার রাত ১০টার দিকে মহুয়ার স্বামী হৃদয় শেখের নেতৃত্বে স্থানীয় আরেক মাদক কারবারি সাহেদা বেগমের ছেলে স্বপ্ন এবং রবিউল ও মারুফসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজন ধারাল অস্ত্র দিয়ে রাজুকে কুপিয়ে ফেলে রাখে যান।

ছবি খাতুন আরও বলেন, প্রথমে রাজুর মুখে গুঁড়াজাতীয় কিছু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দুই পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে ফেলে রাখে। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে ছবি খাতুন বলেন, ‘গতকাল আমার ছেলেকে ওরা এসে বলল, তুই মাদক বেচবি। ও বলছিল, বেচব না। এরপর ওরা ২২ হাজার টাকা দাবি করে। আমার ছেলে বলছিল, দরকার হয় রিকশা চালিয়ে খাব, এই পথে আর কোনো দিন যাব না। তখন ওরা বলছে, হয়তো তুই হাসপাতালে যাবি, নয়তো জেলখানায়। পরে রাতে এসে ওরা কুপিয়ে মাইর‌্যা ফেলছে।’

এদিকে ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, মাদক-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে রাজুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। এই ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড হিসেবে হৃদয় নামে একজনের নাম পেয়েছি। যার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছেন। এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ সুপার বলেন, এখানে সুইপার কলোনি ও রেল কলোনি নামে দুটি কলোনি রয়েছে এবং মাদক কেনাবেচা হয়ে থাকে। আমরা প্রত্যেক মাদক কারবারির তালিকা করব এবং সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি রেলবস্তি এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে শিল্পী বেগম ও তার পরিবারের সদস্যসহ ১৫ জন মাদক কারবারিকে আটক করে। অভিযান চলাকালে শিল্পীর বাড়ি থেকে সাড়ে ৪৫ কেজি গাঁজা, ৩৩৭টি ইয়াবা, ২১১টি হেরোইনের প্যাকেট, ৬১টি দেশীয় অস্ত্র ও ২টি বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়। কিন্তু আটকের ঘটনার কয়েক দিন পরই জামিনে বের হয়ে আসেন শিল্পী বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা।