স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাননি জেলার একমাত্র ‘বীর প্রতীক’

স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাননি লালমনিরহাটের একমাত্র জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীর প্রতীক। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাওয়াত না পাওয়ার কথা স্বীকার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
জানা গেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখায় সরকার ৪২৬ জনকে বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে। এর মধ্যে লালমনিরহাটের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক একজন। স্বাধীনতা দিবসসহ সব জাতীয় দিবসে সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানাতে জাতীয় অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হয়। এ সময় তাদের সম্মান জানানো হয় এবং তাদের হাতে উপহার তুলে দিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সরকারি কর্মকর্তারা।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও স্বাধীনতা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানান জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। বিধিমতো, কার্ড দিয়ে তাদের দাওয়া করা হয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে।
তবে এই দাওয়াত পাননি বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক। স্বাধীনতার পর প্রতি বছর সব জাতীয় দিবসে দাওয়াত পেলেও এবার তাকে দাওয়াত করেনি জেলা বা উপজেলা প্রশাসন। প্রতি বছর জাতীয় দিবসের জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বিচারকের দায়িত্বসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক। তবে এ বছর তাকে দাওয়াত করা হয়নি। শুধু তাই নয়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক গেরিলা লিডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শফিকুল ইসলাম কানুকেও দাওয়াত করেনি জেলা প্রশাসন।
বীর প্রতীক আজিজুল হক বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম সরকার আমাকে দাওয়াত করেনি। তবে কেন করেনি, তা আমি জানি না। প্রতি বছর জাতীয় দিবসে সরকারি কর্মসূচিতে যাই, এবার না যাওয়ায় বিভিন্নজনের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে। এটা অত্যন্ত লজ্জাকর। বর্তমান ডিসি একজন রাজাকার, তাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি সম্মান জানাতে চান না।
লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক গেরিলা লিডার এসএম শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, আমাকেও দাওয়াত দেওয়া হয়নি। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডকেও দাওয়াত করেনি জেলা প্রশাসন। জেলায় একমাত্র জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে দাওয়াত না করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খেতাবপ্রাপ্তকে সম্মান না জানানো অপরাধ। এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তলব করা দরকার।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাওয়াত করেছি। বীর প্রতীককে দাওয়াত না করার বিষয়টি তারাই ভালো বলতে পারবেন। আমরা তাদের যথেষ্ট পরিমাণ কার্ড দিয়েছি।
মুক্তিযোদ্ধারা আপনাকে রাজাকার বলেছেন, এমন কথা জানালে তিনি বলেন, ‘এখন কতজনে কত কিছু বলবেন।’