প্রশাসনের জব্দ করা বালু লুট, নিলাম স্থগিত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অবৈধভাবে উত্তোলন করা প্রায় ২১ হাজার সিএফটি বালু জব্দ করে প্রশাসন। তবে জব্দ করা সেই বালুই এবার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এসব বালু নিলামে বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নিলামের জন্য নির্ধারিত বালুর বড় অংশ আগেই সরিয়ে নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নগর কাটগড়া (কন্নাবাড়ি চরঘাট) এলাকায় জব্দ করা বালু নিলামে বিক্রি করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে যায়। নিলামের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জব্দ করা বালুর অধিকাংশই আগেই লুটপাট করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র রাতের আঁধারে ট্রাক্টরের মাধ্যমে অধিকাংশ বালু সরিয়ে নিয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অবশিষ্ট অল্প পরিমাণ বালু নিলামে বিক্রির উপযোগী না থাকায় প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নগর কাটগড়া এলাকায় ঘাঘট নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদী থেকে উত্তোলন করা বালু পাশেই স্তুপ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে গত বছরের ১৪ মার্চ ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিমউদদীন সেখানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বালু জব্দ করেন।
জব্দ করা এসব বালুর পরিমাণ প্রায় ২১ হাজার সিএফটি। যার আনুমাণিক মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা। পরে বিপুল পরিমাণ এই বালু বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এসব বালু স্তুপ করে রাখা হলেও দায়িত্বে গাফেলতির কারণে লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে, জব্দ করা এসব বালু প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করতে মাইকিং করে উপজেলা প্রশাসন। সে অনুযায়ী উম্মুক্ত নিলামে অংশ নিতে আসেন অনেকে। ইউএনওর পাঠানো পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলও পৌঁছায় সেখানে। পিআইও মশিয়ার রহমানের নেতৃত্বে নিলাম কার্যক্রমে আসা কর্মকর্তা দেখেন, আগেই লুট করা হয়েছে জব্দ করা বালু। পরে নিলাম না করেই ফিরে যান তারা।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৮ মার্চ সকালে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের সময় একটি ট্রাক্টর আটক করেন স্থানীয়রা। পরে সরকারি বালু লুটপাটে ব্যবহৃত ট্রাক্টরটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অদৃশ্য প্রভাবের কারণে পরে ট্রাক্টরটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
নিলামের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, ইউএনওর নির্দেশে জব্দ করা বালু নিলামে বিক্রি করতে এসেছি। কিন্তু আগেই এসব বালু গোপনে বিক্রি করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি ইউএনওকে জানাবো।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, জব্দ করা বালু লুটপাটের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।