ধর্ষণের শিকার কিশোরীর হাসপাতালে মৃত্যু

হবিগঞ্জ শহরে ধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নদী দাস নামে এক কিশোরী মারা গেছে।
সোমবার (১ জুন) হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল ইসলাম সরদার।
তিনি জানান, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে সিলেটে রেফার করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
নদী দাস হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর গ্রামের অজিত দাসের মেয়ে। ছোটবেলা থেকে সে বানিয়াচং উপজেলার মশাকলি গ্রামে নানাবাড়িতে বসবাস করত। চলতি বছর সে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
পরিবার জানায়, বানিয়াচং উপজেলার সুনারু গ্রামের দিলিপ দাসের ছেলে জীবন দাসের সঙ্গে ধরে নদীর প্রেম ছিল। জীবন দাস পেশায় একজন আইনজীবীর সহকারী। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নদীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেন জীবন।
গত শনিবার বিয়ের উদ্দেশ্যে নদী ও জীবন হবিগঞ্জ শহরের একটি মন্দিরে যায়। নদীর বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষ তাদের বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। রোববার তারা আবার হবিগঞ্জ শহরে যায়। সন্ধ্যার দিকে শহরের উমেদনগর এলাকায় স্থানীয়রা নদীকে অসুস্থ ও আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারকে জানালে নদীকে তারা বাড়িতে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে রোববার রাতে তাকে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নদী দাসের নানা নারায়ণ দাস বলেন, বিয়ের কথা বলে নদীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জীবন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নদীকে ধর্ষণ করেছে। আমরা সঠিক বিচার চাই।
ঘটনার পর থেকে জীবন দাস পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরও বন্ধ রয়েছে।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হোসেন জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
