logo

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নয় মাসে ২৮৮২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত, মৃত্যু ১০

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নয় মাসে ২৮৮২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত, মৃত্যু ১০
আশ্রয় শিবিরের একটি সরু গলিতে কয়েকজন রোহিঙ্গাকে দেখা যাচ্ছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গু আক্রান্ত বাড়ছে। চলতি বছরের নয় মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই হাজার ৮৮২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গুর সর্বশেষ পরিস্থিতির নিয়ে তৈরি করা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি বছরের এক জানুয়ারি থেকে পাঁচ অক্টোবর পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৩ জন। যেখানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৮৮২ জন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আক্রান্তের মধ্যে ১০ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যমতে, মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে চার জন বয়স্ক নারী ও পুরুষ এবং ৬ জন শিশু রয়েছে।

প্রতিবেদনটির সর্বশেষ হিসাবে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে নতুন করে এক রোহিঙ্গাসহ ৩২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৩ জন।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের প্রধান স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু তোহা মো. রিজুয়ানুল হক ভূঁইঞা এশিয়া পোস্টকে বলেন, সংখ্যার তুলনায় পাঁচটি ক্যাম্পে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। নয়াপাড়া আরসি ক্যাম্প, ক্যাম্প-১৪, ক্যাম্প-২৬, ক্যাম্প-১৯ এবং ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনে সবচেয়ে আক্রান্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ক্যাম্পের ঘনবসতি, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার কারণে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বর্ষা শেষ হলেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রোগ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, আরআরআরসি অফিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ কক্সাবাজারের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত এই কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশারি ব্যবহার নিশ্চিতের পরামর্শসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া ঘরের দরজা-জানালায় নেট ব্যবহার এবং মশা প্রবেশের সুযোগ কমিয়ে আনারও আহ্বান জানান স্বাস্থ্য বিভাগের এ শীর্ষ কর্মকর্তা।