logo
আমানত নিয়ে উদ্বিগ্ন শত শত গ্রাহক

মুন্সীগঞ্জে অগ্রণী ব্যাংকের ১৪ হিসাবে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার গরমিল

মুন্সীগঞ্জে অগ্রণী ব্যাংকের ১৪ হিসাবে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার গরমিল
অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় আমানত নিয়ে উদ্বিগ্ন শত শত গ্রাহক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখায় গ্রাহকদের আমানত আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির পর ব্যাংক খুলতেই জমা টাকার হিসাব যাচাই ও অভিযোগ জানাতে শাখায় ভিড় করেন শত শত গ্রাহক।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় এ ভিড় দেখা যায়। উদ্বিগ্ন গ্রাহকেরা তাদের হিসাব যাচাইয়ের পাশাপাশি আত্মসাতের অভিযোগসংক্রান্ত লিখিত আবেদন জমা দেন।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বৈধ প্রমাণপত্রসহ লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শাখার ফটকে একটি নোটিশ টাঙিয়ে দেয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার সকাল থেকেই অভিযোগ গ্রহণ শুরু হয়।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ১৪টি হিসাব যাচাই করে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার গরমিল পাওয়া গেছে। তবে সব হিসাব নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত গরমিলের পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকা সার্কেলের প্রধান কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, নিরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব ব্যাংক নেবে।

শ্রীনগর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার শরীফ উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার শরীফ উদ্দিন। অভিযোগে শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শরীফুজ্জামান সোহাগকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

শ্রীনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করবে।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় ভুক্তভোগী ও উদ্বিগ্ন গ্রাহকদের ভিড় জমে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।