আ.লীগের ইউপি সদস্যের স্ত্রী পেলেন সারের ডিলারশিপ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন আওয়ামী লীগের ইউপি সদস্য আব্দুল আউয়ালের স্ত্রী মালা আক্তার। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে শুরু হয়েছে সমালোচনা। এর আগে সারের ডিলারশিপ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে দলীয় পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন সাটুরিয়ার দড়গ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে এসকে রাসেল আহমেদ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ফেসবুকে মালা আক্তারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে সমালোচনামূলক পোস্ট দেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের ইউপি সদস্য আউয়াল হরগজ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এবং জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন। পোস্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের ছবিও প্রকাশ করা হয়।
পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে অনেকে মালা আক্তারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ নিয়োগে অর্থের প্রভাব থাকার অভিযোগ করেন।
মো. রানা আহমেদ নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘দলের কাছে ত্যাগীদের কোনো দাম নেই। কোনো একসময় মিটিং-মিছিল করার জন্য কর্মী খুঁজে পাবে না।’ আশরাফ আলী রাফি লেখেন, ‘সবকিছুই টাকার খেলা ভাই।’ রাকিব হাসান রফিক ও সেলিম খান নামের দুজনও নিয়োগের সমালোচনা করেন।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. আউয়াল বলেন, তিনি দ্বিতীয়বারের মতো হরগজ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী লীগে তার কোনো পদ ছিল না। তবে ইউপি সদস্য হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়েছে তাকে।
আউয়াল বলেন, আমি আওয়ামী লীগের কোনো পদধারী নেতা নই। ইউপি সদস্য হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারি কর্মসূচির জন্য অনেকের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে।
সার ডিলারশিপের আবেদনের বিষয়ে আউয়াল বলেন, তার ভাই প্রথমে নিজের স্ত্রীর নামে ডিলারশিপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তার ভাইয়ের স্ত্রী সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় পরে তার স্ত্রী মালা আক্তারের নামে আবেদন করা হয়।
গত ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় নতুন সার ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করে জেলা প্রশাসন। এরপর বিভিন্ন এলাকায় ডিলার নিয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে আবেদনকারীর তালিকা জেলা কমিটির কাছে পাঠায়। পরে জেলা কমিটি তালিকাটি মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।
ইউএনও বলেন, মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই শেষে যাকে সবচেয়ে যোগ্য মনে করেছে, তাকেই ডিলার হিসেবে মনোনীত করেছে। এখানে আবেদনকারীর নারী-পুরুষ পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক পদ-পদবি বিবেচনার বিষয় ছিল না।
এর আগে, সারের ডিলারশিপ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে দলীয় পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন সাটুরিয়ার দড়গ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি বিএনপির অঙ্গসংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ থেকে বিএনপি অঙ্গসংগঠনের সকল প্রকার পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। GOOD BYE।’