আ.লীগ নেতার কারখানায় এনসিপি নেতার তামাক কোম্পানি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পরিদর্শন ঘিরে বিতর্ক

নাম ও মালিকানা পরিবর্তন করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার তামাক প্রক্রিয়াজতকরণ কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত ‘জেনুইন লিফ টোব্যাকো লিমিটেড’ (জিএলটি) নামের ওই কারখানা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা গুঞ্জন রয়েছে। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ওই কারখানা পরিদর্শনে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) কুষ্টিয়া সফরে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হামলার শিকার হন। সন্ধ্যায় কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় লালন সাঁইয়ের মাজার প্রাঙ্গণে তার ওপর হামলা হয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে কুমারখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সফর ঘিরে সমালোচনা
ফেসবুকে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কুষ্টিয়া সফরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি জিএলটির কারখানার ভেতরে হাস্যোজ্জ্বল মুখে কয়েকজন সঙ্গীকে পাশে ডেকে নিয়ে ফটোশ্যুট করছেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম জিয়াউদ্দিন রনিসহ কয়েকজন।
কাগজে-কলমে জেনুইন লিফ টোব্যাকোর মালিক জিয়াউদ্দিন রনি। তিনি বলছেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি এই কোম্পানির মালিক। এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো নেতার সম্পৃক্ততা নেই। মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এখন যেখানে জিএলটির কারখানা, সেটি আগে ‘তারা লিফ টোব্যাকো লিমিটেড’ নামে পরিচালিত হতো। ‘তারা লিফের’ মালিক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটন। নকল সিগারেটের কারবারি হিসেবে তিনি বহুল পরিচিত। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ছত্রছায়ায় নকল সিগারেটের কারবার চালাতেন লিটন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি পালিয়ে গেলে জিএলটি নামে নতুন কোম্পানি খুলে সেই কারখানা পরিচালনার দায়িত্ব নেন জিয়া উদ্দিন। এর আগে তিনি লিটনের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ছিলেন।
এছাড়া গত বছরের জুনে কুষ্টিয়ার সাফিনা টাওয়ারে অবস্থিত জিএলটির কার্যালয়ের পার্কিং থেকে একটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করে পুলিশ। পরে জানা যায়, গাড়িটি ভারতে হক্যাকাণ্ডের শিকার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের। এনসিপি নেতার প্রতিষ্ঠানের পার্কিংয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির গাড়ি কীভাবে এলো তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।
এমন বিতর্কিত একটি প্রতিষ্ঠানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কেন গিয়েছিলেন তা জানতে তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার হোয়াটসঅ্যাপে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন লিখে পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জিএলটির সঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এটা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ব্যক্তিগত সফর ছিল। এ বিষয়ে আমরা আগে থেকে কিছু জানতাম না। কুষ্টিয়ার যে কোম্পানিতে তিনি গিয়েছিলেন, আমি যতটুকু শুনেছি চট্টগ্রাম এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন রনি সেই প্রতিষ্ঠানের একজন মালিক।’
এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি বলেন, ‘নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী ভেড়ামারার দশ মাইলের জিএলটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানে গেছেন শুনে ফোন করেছিলাম। আমি বলি, ভাই আপনি এখানে আসছেন, আমরা জানি না। তিনি বললেন, আমি পার্সোনাল একটা কাজে আসছি। পরে বললাম, আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাচ্ছি। তখন তিনি বলেন, এখানে তো দেখা হবে না। আমরা এখান থেকে শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে যাব। আপনি কুষ্টিয়াতে দেখা করেন।’
এ বিষয়ে গণধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘একজন বিতর্কিত ব্যক্তি কুষ্টিয়া এসে দলের কাউকে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের আলোচিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। এটা ওই প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগের লোকজনকে পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা কি না, তা তদন্ত করে দেখা দরকার।’
জিএলটির মালিকানা নিয়ে বিতর্কের নেপথ্যে
নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর সফরের পর নতুন করে আলোচনায় আসা ‘জেনুইন লিফ টোব্যাকো লিমিটেডের’ সঙ্গে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সবুর লিটনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নতুন নয়। ৫ আগস্টের আগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোম্পানি খুলে নকল সিগারেটের রমরমা কারবার গড়ে তোলেন তিনি। কুষ্টিয়ার পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ ও চট্টগ্রামেও নকল সিগারেটের কারবার রয়েছে তার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি নামিদামি কোম্পানির নকল সিগারেট তৈরি ও নকল ব্যান্ডরোল লাগিয়ে বাজারে সরবরাহ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র আব্দুস সবুর লিটন। তিনি চট্টগ্রামের রামপুর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং রামপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও খালিশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার এই অবৈধ ব্যবসার সারথী হিসেবে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নাম এসেছে বারবার।
অভিযোগ রয়েছে, ‘বিজয় ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকো’ ও ‘তারা ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকো’ নামক দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নওফেল ও লিটন রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে লোপাট করেছেন হাজার হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাদের একাধিক কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির প্রামাণ পায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, লিটনের তামাক কোম্পানির প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তদন্ত করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘জেনুইন লিফ টোব্যাকো’র বর্তমান কারখানাটি আগে ‘তারা লিফ টোব্যাকো’ নামে পরিচালিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নতুন নামকরণ করা হলেও স্থানীয়দের কাছে ওই কারখানা ‘তারা লিফ টোব্যাকো’ হিসেবে এখনো পরিচিত।
‘তারা লিফ টোব্যাকো’ কীভাবে ‘জেনুইন লিফ টোব্যাকো’ হয়ে উঠলো সে বিষয়ে জানতে আব্দুস সবুর লিটনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর লিটন দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এমন প্রেক্ষাপটে লিটনের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে লিটনের ঘনিষ্ঠ একজন এশিয়া পোস্টকে জানান, এনসিপি নেতা জিয়া উদ্দিন রনি লিটনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কোন পদপদবী না থাকলেও চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জিয়া উদ্দিন রনি সক্রিয় ছিলেন বলেও দাবি করেন লিটনের ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তি।
তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর নিজের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে ঘনিষ্ঠ লোকজনের নামে নতুন কোম্পানি খুলে ব্যবসা বুঝিয়ে দেন লিটন। সেই ধারাবাহিকতায় জিয়া উদ্দিন রনির নামে ‘জিএলটি’ খোলা হয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত ফান্ডিংয়ের বদলে একটি মহল এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেনুইন লিফ টোব্যাকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন রনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘জিএলটির সঙ্গে আব্দুস সবুর লিটন বা নওফেলের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি পুরোপুরি আমার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। আমি একসময় ‘তারা লীফ টোব্যাকোর’ ডিজিএম হিসেবে কাজ করতাম। সেটা নিয়ে আমাকে নানাভাবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।’
জিয়া উদ্দিন রনির ফেসবুক আইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি ‘জেনুইন লিফের’ এমডি হিসেবে আছেন। তবে একাধিক সূত্র বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানের আগে রনির সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
এদিকে জেনুইন লিফের মালিকানা প্রমাণের জন্য জিয়া উদ্দিন রনি এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদকের কাছে একটি ট্রেড লাইসেন্সের কপি পাঠান। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ৩ নং বাহিরচর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চলতি বছরের ২৪ জুন ইস্যুকৃত ওই ট্রেড লাইসেন্স ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য। লাইসেন্সটির নম্বর ৭১৯/২০২৬-২০২৭। লাইসেন্সটিতে মালিক বা প্রতিনিধি হিসেবে এম. কে. এম জিয়া উদ্দিনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা অঞ্চলের বাহিরচরের দশ মাইল। লাইসেন্স অনুযায়ী, ব্যবসার ধরন হিসেবে তামাকপণ্য আমদানি, রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কথা উল্লেখ আছে এবং এই লাইসেন্সের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
‘জেনুইন লিফ টোব্যাকো’ নামে যে কারখানাটি এখন পরিচালিত হচ্ছে সেটি আগে ‘তারা লিফের’ ছিল কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘এটা পুরোপুরি ভুয়া। আমি জাকির হোসেনের কাছ থেকে এটি নিয়েছি।’
এর প্রমাণ হিসেবে তিনি একটি চুক্তিপত্র পাঠান। ২০২৫ সালের ২৯ মার্চ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন এবং ‘জেনুইন লিফ টোব্যাকো’র এমডি এ কে এম জিয়া উদ্দিনের মধ্যে সম্পাদিত ওই চুক্তিতে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮১৩ বর্গফুট জায়গা ও তিনটি ফ্যাক্টরি শেড দ্বিতীয় পক্ষকে মোট দশ বছরের ভাড়া দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এতে জামানত হিসেবে ৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা প্রতি মাসে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকা করে পরবর্তী ২০ মাসে ভাড়া হিসেবে সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে।
জিয়া উদ্দিন রনি অস্বীকার করলেও অনুসন্ধানে পাওয়া নথিপত্র বলছে, জিএলটির কারখানার জায়গায় আগে ‘তারা লিফ টোব্যাকোর’ কারখানা ছিল। ভেড়ামারার বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন ও আব্দুস সবুর লিটনের মধ্যকার এ সংক্রান্ত চুক্তিপত্র হাতে এসেছে এশিয়া পোস্টের। ওই চুক্তিপত্র অনুযায়ী জাকির হোসেনের কাছ থেকে ‘তারা লিফ টোব্যাকোর’ নামে তিনটি ফ্যাক্টরি শেডসহ জায়গা ভাড়া নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
একই সঙ্গে ভেড়ামারার ৩ নং বাহিরচর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ‘তারা লিফ টোব্যাকো’ নামে ইস্যুকৃত ট্রেড লাইসেন্সের কপিও পেয়েছে এশিয়া পোস্ট। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট আব্দুস সবুর লিটনের নামে ইস্যু হওয়া সেই লাইসেন্স (লাইসেন্স নং ৬০/২০২৪-২০২৫) প্রমাণ করে ভেড়ামারার বাহিরচর ইউনিয়নের দশমাইল এলাকা থেকেই ‘তারা লিফ টোব্যাকো’ পরিচালিত হতো।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘জিএলটি (জেনুইন লিফ টোব্যাকো) সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং চসিকের সাবেক কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের। এনসিপি নেতারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যবসা করছেন।’

