লক্ষ্মীপুরে খোরশেদ হত্যা: গ্রেপ্তার ২, মূল আসামিরা অধরা

লক্ষ্মীপুরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে (৫০) গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনও গ্রেপ্তার হননি বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলসাদপুর গ্রামের খাঁনের বাড়ির কাছে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত খোরশেদ আলম ওই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি পেশায় মাটি ব্যবসায়ী ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার ও মেয়ে প্রেমা আক্তারের অভিযোগ, ইটভাটায় মাটির ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে খোরশেদকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনার দিন মোরশেদ ও মজিদ নামের দুই ব্যক্তি খোরশেদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর তারা গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোরশেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, মৃত্যুর আগে খোরশেদ ওয়ালিদ, সোহাগ ও হিরু নামের কয়েকজনের কথা বলে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার জহুরুল ইসলাম রনি বলেন, খোরশেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে দুটি গুলির চিহ্ন ছিল।
নিহতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার জানান, তিনি বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তার ভাষ্য, ঘটনার প্রায় সাত ঘণ্টার মধ্যে ইব্রাহিম ও মাসুদ রানা নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
আকলিমা আক্তারের অভিযোগ, স্বামী হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে তারা নানা ধরনের চাপ ও অপপ্রচারের মুখে পড়ছেন। তিনি প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
নিহতের মেয়ে প্রেমা আক্তার বলেন, গ্রেপ্তার দুজনই প্রকৃত অপরাধী কি না, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। বাবার হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চান তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকাশ্যে গুলি করে একজনকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এজাহারভুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

