রংপুরে ইয়াবাসহ পুলিশের বর্তমান ও সাবেক দুই সদস্য গ্রেপ্তার

রংপুর নগরীতে একটি হোটেল থেকে ১৯ পিস ইয়াবাসহ পুলিশের বর্তমান ও সাবেক দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে মহানগরীর পায়রা চত্বর এলাকার স্কাইভিউ হোটেলের সপ্তম তলার ৭১০ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রংপুর জেলা পুলিশের বর্তমান সদস্য কনস্টেবল মিঠুন ইসলাম (২৯) এবং সাবেক কনস্টেবল ওমর আলী (৩৭)।
গ্রেপ্তার ওমর আলী সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার কোনাবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার সরকারের ছেলে। তিনি পুলিশের সাবেক সদস্য। অন্যদিকে, মিঠুন ইসলাম দিনাজপুরের বিরল থানার মোহনপুর গ্রামের মো. মাজেদুল ইসলামের ছেলে। তিনি রংপুর জেলা পুলিশের বর্তমান সদস্য। সম্প্রতি তাকে এসআরবিতে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রংপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু জাফর এশিয়া পোস্টকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি রংপুর উপ-আঞ্চলিক ‘ক’ সার্কেলের উপপরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি অভিযানকারী দল স্কাইভিউ হোটেলের ৭১০ নম্বর কক্ষে অভিযান চালায়।
এসময় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচে মেঝেতে থাকা একটি ডার্বি সিগারেটের প্যাকেটের ভেতরে জিপারযুক্ত পলিব্যাগ থেকে ১৯ পিস (১.৯ গ্রাম) গোলাপি রঙের অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া খাটের নিচ থেকে ইয়াবা সেবনের চারটি পাইপ, দুটি গ্যাস লাইট, তিনটি প্লাস্টিকের কর্ক, দুটি ফয়েল পেপার এবং আসামিদের ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ হাজার ৭০০ টাকা।
ডিএনসির এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ওমর আলী পুলিশের সাবেক সদস্য এবং মিঠুন ইসলাম রংপুর জেলা পুলিশের সক্রিয় সদস্য। এ ছাড়া এক নম্বর আসামি ওমর আলী ২০২৩ সালে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানায় দায়ের করা একটি মাদক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
এ ঘটনায় ডিএনসির উপপরিদর্শক মো. তাহিমুদার রহমান বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
