মেডিকেল কলেজে নিয়মিত অস্ত্র বহন করতেন শিক্ষক রায়হান

দুই বছর আগে শিক্ষার্থীকে গুলির ঘটনায় আলোচনায় আসেন ডা. রায়হান শরীফ। ২০২৪ সালের ৪ মার্চ সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজে (সাবেক এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ) ওই ঘটনার পর রায়হান আটক হন। তার কাছে পাওয়া যায় দুটি বিদেশি পিস্তল, ৮১ রাউন্ড গুলি, চারটি ম্যাগাজিন ও দুটি অত্যাধুনিক ছোরা। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওয়াদুদ আলী অস্ত্র আইনে মামলা করেন।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. ইকবাল হোসেন জনাকীর্ণ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। রায়ে রায়হান শরীফকে ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, শিক্ষক হয়েও রায়হান শরীফ বেআইনিভাবে দুটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ গুলি, ম্যাগাজিন ও ধারালো অস্ত্র নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন। তিনি কর্মস্থলেও নিয়মিত অস্ত্র বহন করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালকে তিনি গুলি করেন।
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, ছাত্রজীবন থেকে রায়হান শরীফ সশস্ত্র ক্যাডার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও সেই কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখেন তিনি।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ কলেজের একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় ক্লাস চলাকালে ডা. রায়হান শরীফ শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করেন। এতে তমাল গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রফিক সরকার বলেন, রায়হান শরীফ কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। আদালত অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) ধারায় তাকে ১৪ বছর এবং ১৯(এফ) ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
