কুড়িগ্রামের সেই বাজারে চার দশক পর গরুর মাংস বিক্রি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনিরপাট বাজারে প্রায় চার দশক পর গরুর মাংস বিক্রি শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর বাজার-সংলগ্ন জামে মসজিদের সামনে প্রতিকেজি ৬০০ টাকা দরে গরুর মাংস বিক্রি করা হয়।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) নাগেশ্বরী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাকনিরপাট বাজারে প্রায় চার দশক গরুর মাংস বিক্রি হয়নি। হিন্দু অধ্যুষিত এ এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চলে আসছিল এই প্রথা। গরু জবাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে দুই সম্প্রদায়ের মুসলিম ও হিন্দু (সনাতন) মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১২ এপ্রিল কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব নেন। পরদিন ১৩ এপ্রিল বিকেলে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বদরুজ্জামান রিসাদ এবং নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামানের উপস্থিতিতে ডাকনিরপাট বাজার-সংলগ্ন একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি মুসলিম ও হিন্দু (সনাতন) সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে প্রথমে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বিষয়টি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হলে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দেয়।
পরে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) বদরুজ্জামান রিসাদ ও ওসি আব্দুল্লাহ হিল জামান উপস্থিত হয়ে গরু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করে দেন। এরপর জুমার নামাজের পর আনুষ্ঠানিকভাবে মাংস বিক্রি শুরু হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গয়ানাথ সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক সালিশ বৈঠক হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গরুর মাংস বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফিরদাউস হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে মাংস বিক্রি বন্ধ ছিল। আবার শুরু হয়েছে। মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছে।
নাগেশ্বরী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান বলেন, এলাকাটি হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় আগে কখনও এখানে গরু জবাই করা হয়নি। তবে এখন দুই সম্প্রদায়ের সমঝোতায় মাংস বিক্রি শুরু হয়েছে।