logo

দিনাজপুরে আগাম শিম চাষে সফলতা, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে

কুরবান আলী
দিনাজপুর
দিনাজপুরে আগাম শিম চাষে সফলতা, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে
দিনাজপুরের একটি ক্ষেতে লতানো শিম গাছে ফুটেছে বেগুনি ও সাদা ফুল। ছবি : এশিয়া পোস্ট

দেশের অন্যতম শীর্ষ খাদ্য উৎপাদনকারী জেলা দিনাজপুরে আগাম শীতকালীন শিম চাষ করে লাভবান হয়েছেন কৃষকেরা। শীত মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে শিম তুলে ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে কৃষকদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে শিমের ফলন ভালো হয়েছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা গ্রাম। এই গ্রামের অধিকাংশ জমি এখন আগাম শীতকালীন শাক-সবজির দখলে। গ্রামের কৃষক মুক্তার আলী দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের শিম আবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে এক মাস ধরে ক্ষেতের শিম বাজারে বিক্রি করছেন তিনি। তার পাশাপাশি এই গ্রামের অধিকাংশ কৃষক শীতকালীন শিমসহ বিভিন্ন শাক-সবজি আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লতানো শিম গাছে ফুল আর থোকায় থোকায় শিমে ভরে গেছে বিস্তীর্ণ ক্ষেত। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে তাজা শিম তুলে স্থানীয় বাজার ছাড়াও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যাপারিদের কাছে বিক্রি করছেন। পাশাপাশি এই গ্রামের কৃষকেরা এখন আগাম জাতের আলু আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কৃষকেরা জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় আগাম শিম চাষে খরচ অনেক কম, কিন্তু লাভ বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পোকা-মাকড়ের আক্রমণও কম হয়েছে। শুরুতে প্রতি কেজি শিমের দাম অনেক ভালো পেয়েছেন তারা।

শিমচাষি মুক্তার আলী বলেন, আমি ২ বিঘা জমিতে আগাম জাতের শিম আবাদ করেছি। গত এক মাস ধরে শিম তুলে বাজারে বিক্রি করছি। প্রথম দিনে ২০০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করেছি। তবে এখন দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে। শীতের আগেই আগাম শিম আবাদ করে আমি বেশ লাভবান হয়েছি।

কৃষক জুয়েল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় সব সময় আগাম শীতকালীন শাক-সবজি আবাদ করা হয়। এই সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। পাশাপাশি আগাম শাক-সবজির দামও ভালো পাওয়া যায়। আমন ধান কাটার পর সেই জমিতে এখন আগাম জাতের আলু রোপণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর দিনাজপুর সদর উপজেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ করা হয়েছে; যেখানে মোট ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন শিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, আগাম জাতের সবজি চাষে ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাওয়া যায়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের মানসম্মত বীজ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সার ও কীটনাশকের সুষম প্রয়োগ সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় দিনাজপুরে আগামী দিনগুলোতে আগাম শিমসহ অন্যান্য সবজি চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।