জয়পুরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নারীকে মারধরের অভিযোগ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারী ও তার গর্ভবতী কন্যার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির নেতা (সাধারণ সম্পাদক) আবু বক্কর সিদ্দিকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, অভিযুক্তরা হলেন— মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (৪৮), মো. আজিজুর সরকার (৫০), মো. আবু কালাম (৩৫), মো. জনি চৌধুরী (৩৮), মোছা. শাপলা বেগম (৩০) ও মোছা. সালেহা বেগম (৫৫)। তারা সবাই ক্ষেতলাল উপজেলার রামপুরা গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীর ভোগদখলীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে তার হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার সময় এক অভিযুক্ত তার পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করে এবং কানে থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের দুল (আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় তার গর্ভবতী কন্যা মোছা. সাবরিন সিফা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকেও মারধর করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং গর্ভস্থ সন্তানের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের সোনার চেইন (আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত মা ও মেয়েকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, জমিজমা নিয়ে ওই মহিলার সঙ্গে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। তবে আমি বা আমার কোনো লোকজন তাকে আঘাত করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরে আলম সিদ্দিক বলেন, ঘটনাটি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।