বালুর ট্রাক ঠেকাতে সড়কে পিলার বসিয়ে প্রতিবাদ

মাগুরা সদর উপজেলার বগিয়া ও কছুন্দি ইউনিয়নের আটটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চলাচলের পথ অচল করে তুলেছে মধুমতি নদী থেকে উত্তোলিত অবৈধ বালু বহনকারী ভারী যানবাহন। দিনের পর দিন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সমাধান না পেয়ে অবশেষে ক্ষোভে গ্রামের বাসিন্দারা সড়কের মাঝখানে সিমেন্টের পিলার পুঁতে বালুবাহী যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বালুবাহী ভারী যান চলাচল বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও আবেদন করেও তারা প্রতিকার পাননি। পরে বাধ্য হয়ে সড়কে পিলার বসিয়ে প্রতিবাদ করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় মধুমতি নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে ট্রাকসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহনে এসব বালু আশপাশের এলাকায় সরবরাহ ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বালুবাহী যান গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে চলাচল করায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, মাত্র ছয় মাস আগে নির্মিত একটি সড়কও ভারী যানবাহনের চাপে বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয়দের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাগবাড়িয়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিষয়টি সহ্য করে আসছেন। কিন্তু নতুন সড়ক নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই ভারী বালুবাহী যান চলাচলের কারণে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হয়েছেন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মেহেরুনন্নাহার বলেন, বিষয়টি জানার পর মধুমতি নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলে ভারী যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যাবে।



