logo

কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও

কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও

ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নূরুল্লাহ শাওন নিহতের ঘটনায় পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন রাতের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন।

নিহত শাওনের বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদ বলেন, ছিনতাইকারীরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, প্রশাসন শুধু গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু গ্রেপ্তার করতে পারছে না। রাতের মধ্যেই শাওন হত্যায় জড়িত ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তা না হলে কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

শাওনের আরেক বন্ধু শোয়াইব আক্তার বলেন, আমার দুই বন্ধু ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একজন সাঁতরে নদী পার হয়ে এলেও শাওনকে পাইনি। আমরা একজনকে ধরে সবার নাম-ঠিকানা পুলিশকে দিলেও পুলিশ কিছু করেনি। শাওন হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এর আগে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নুরুল্লাহ শাওন ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুই বন্ধুকে অন্তত সাতজনের একটি ছিনতাইকারী দল ঘিরে ধরে তাদের কাছে যা আছে বের করে দিতে বলে। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই জানালে দুই বন্ধুকে মারধর করা হয়। 

একপর্যায়ে দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। চারজন পিছু নেয় শাওনের এবং তিনজন পিছু নেয় মঞ্জুরুলের। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদ সাঁতরে পার হতে পারলেও নুরুল্লাহ শাওন কোন দিকে গেছেন তার সন্ধান মেলেনি। 

পরে মঞ্জুরুল তীরে উঠে এলাকাবাসী ও বন্ধুদের খবর দিলে ছিনতাইকারী দলটির ১৫ বছর বয়সী এক সদস্যকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে শাওনের মা শাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ। 

এদিকে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ব্যাটবল চত্বর সংলগ্ন ব্রক্ষপুত্র নদ থেকে শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ছিনতাইকারী কিশোর দলটি নিজেদের এলাকায় সন্ধ্যার দিকে যারা ঘুরতে যায়, তাদের ‘ঠেক’ দিত। তারা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকে দলটিকে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা মুঠোফোনও ব্যবহার করে না। পরিবারগুলোও খুবই দরিদ্র। একজনকে ধরে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড হলে বিস্তারিত জানতে পারতাম। কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সেই সুযোগ নেই। অন্যদের ধরতে পারলে কি ঘটেছিল তা বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি বলেন, আমরা সুরতহালে নিহত শিক্ষার্থীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাইনি। পানিতে পড়ে গেলে যেসব চিহ্ন থাকে, সেগুলো ছিল। আমাদের ধারণা, পানিতে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে। তবে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।