Advertisement

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করায় স্ত্রীর কারাদণ্ড

এশিয়া পোস্ট নিউজ, মানিকগঞ্জ
স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করায় স্ত্রীর কারাদণ্ড
মিথ্যা যৌতুক মামলা করায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত লাভলীকে মানিকগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মানিকগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলার অভিযোগে লাভলী আক্তার নামে এক নারীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মানিকগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক দোলন বিশ্বাস এ রায় দেন।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে আরিফুল ইসলাম রতনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা করেন তার স্ত্রী লাভলী আক্তার। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল আরিফুল পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে মারধর করেন। পরে আরও একটি ঘটনায় যৌতুক দাবির অভিযোগ আনা হয়।

তবে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা দুই ঘটনার সময়ই আরিফুল সৌদি আরবে ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল চাকরির উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান এবং ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন।

সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে গত ২৭ জুলাই আদালত আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেন। পরে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত লাভলী আক্তারকে ৬ ধারায় ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন কোহিনুর বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তার মক্কেলকে খালাস দেন। পরে মিথ্যা মামলা করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাদীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত বাদীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সমাপ্তি আক্তার বলেন, সাজা হওয়ার পর আপিলের শর্তে লাভলী আক্তারের জামিনের আবেদন করা হয়। পরে আদালত এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

মানিকগঞ্জ জেলা জজকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এম শফিউল আজম বলেন, মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করলে বাদীকেও যে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, এ রায় তার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এ ধরনের রায়ে সমাজে ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলা করার প্রবণতা অনেকটাই কমে আসতে পারে।