logo

ফল ব্যবসায়ীদের দখলে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়ক, যানজটে নাকাল যাত্রীরা

ফল ব্যবসায়ীদের দখলে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়ক, যানজটে নাকাল যাত্রীরা
ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের প্রবেশদ্বার মহিপালে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ ফলের দোকান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ব্যস্ততম প্রবেশদ্বার মহিপালে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ ফলের দোকানগুলোর কারণে প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের একপাশ দখল করে ব্যবসা চলে আসলেও কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী যাত্রী ও সাধারণ পথচারীরা। অনতিবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের সর্ববৃহৎ ফল মার্কেট অবস্থিত ফেনীর ব্যস্ততম মহিপালে। প্রায় আড়াই শতাধিক ফল ব্যবসায়ী ও হাজারো শ্রমিকের রুটি-রুজির কেন্দ্র এই বাজার। ফেনী ছাড়াও নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার খুচরা ব্যবসায়ীরা এখান থেকেই ফল সংগ্রহ করেন। তবে বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করলেও, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করায় এই আড়তগুলোই এখন স্থানীয় যাতায়াতের প্রধান অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দেশ-বিদেশ থেকে আসা ফল খালাসের জন্য পাইকারি মালবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ সরাসরি ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। দিনের ব্যস্ততম সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসব যানবাহন সড়ক দখল করে মালামাল লোড-আনলোড করায় পেছনের যানবাহনের গতি স্তব্ধ হয়ে যায়। ফলে পুরো মহিপাল এলাকায় সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। নোয়াখালী অঞ্চল থেকে ফেনী শহরে প্রবেশ মুখেই গাড়িগুলোকে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়।

শুধু মহাসড়কই নয়, আড়তগুলোর ফলের ঝুড়ি, খুচরা বিক্রেতাদের পসরা এবং ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীদের চলাচলের কোনো জায়গা থাকে না। বাধ্য হয়ে পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। এছাড়া পাইকারি কেনাবেচার সময় ছোট ভ্যান, থ্রি-হুইলার ও রিকশা যত্রতত্র পার্কিং করায় দূরপাল্লার বাসসহ অন্যান্য যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে এই মহাসড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ পথচারী ও যাত্রীরা।

​

এ সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী নোয়াখালির বেগমগঞ্জের বাসিন্দা ফেনীর রামপুর নাসির মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজের যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক লুৎফুল করিম এশিয়া পোস্ট কে জানান,আমি নোয়াখালী থেকে অফিসে যাওয়ার পথে মহিপাল হল মার্কেটের এ স্থানে যানজটের কারণে গাড়িতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয়।এতে করে আমার অফিসে যাওয়া অনেক সময় বিলম্ব ঘটে। এ স্থান থেকে ফল মার্কেটটি সরিয়ে যদি অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে ফেনী- নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীদের অনেক সুবিধা হবে। আমি এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

দাগনভুঞার বেকের বাজার থেকে আসা যাত্রী ফেনী জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা আবুল হোসাইন মোহাম্মদ উল্লাহ এশিয়া পোস্টকে বলেন, মহিপাল ফেনীর মূল প্রবেশপথ। এখানে প্রতিনিয়ত এভাবে সড়কের ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করায় কয়েক মিনিটের পথ পার হতে আধঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যায়। দ্রুত এর একটা স্থায়ী সমাধান দরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিপাল ফল আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, আসলে ফল মার্কেটের কারণে এখানে যানজট বেড়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। একদিন আমার সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্সের গাড়ি যানজটে আটকা পড়েছে তা দেখে আমিও কষ্ট পেয়েছি। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর এখানে থাকব না। আমরা নতুন স্থানে শিফট করব। এজন্য আমরা ব্যবসায়ীরা শহরতলীর পাঁচগাছিয়াতে নতুন ফল মার্কেট নির্মাণে হাত দিয়েছি। সেখানে দেড়শতাধিক দোকান প্রস্তুত হচ্ছে এবং জায়গা অনেক সুপরিসর। আগামী তিন মাসের মধ্যে সেখানে কিছু ব্যবসায়ী চলে যাবেন বলে আশা করছি। নতুন স্থানে চলে গেলে হয়তো তখন যানজট কমে আসবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনীর মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নোমান বলেন, আসলে শহরের স্টার লাইন হাসপাতাল থেকে মহিপাল গোল চত্বর পর্যন্ত দীর্ঘদিন যাবৎ যানজট লেগে থাকে। এই বিষয়ে ব্যবসায়ীদেরকে আরও সচেতন হতে হবে। আর যারা মহাসড়কের এক পাশ দখল করে ব্যবসা করছেন এটি কোনভাবেই বৈধ নয়। এ বিষয়ে জেলা ও পৌর প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলে তখন ট্রাফিক পুলিশ সহায়তা করবে।