logo
Advertisement

সিলেট সফর বহাল, তবুও সিউকের উদ্বোধনে থাকছেন না প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সিলেট
সিলেট সফর বহাল, তবুও সিউকের উদ্বোধনে থাকছেন না প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি : গণমাধ্যম থেকে নেওয়া

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) কার্যক্রম ও কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আজ মঙ্গলবার। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নাম থাকলেও শেষ মুহূর্তে বদলে গেছে তার সফরসূচি। সিলেট সফর বহাল থাকলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না তিনি। বিষয়টি ঘিরে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

Advertisement

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়াও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নাম রয়েছে।

তবে আমন্ত্রণপত্রে নাম থাকলেও শেষ মুহূর্তে সিউকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছেন না প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার প্রকাশিত তার সফরসূচিতেও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই রাতেই পরিমার্জিত সফরসূচি প্রকাশ করা হয়। এতে মন্ত্রীর সিলেট সফর বহাল থাকলেও সিউকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার অংশ নেওয়ার কথা বাদ দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের দাবি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এ কারণেই তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না বলে তারা মনে করছেন। এর মধ্য দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যে দীর্ঘদিনের কথিত রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

তবে এ ধরনের আলোচনা নাকচ করেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় আমার একটি জরুরি কর্মসূচি থাকায় সফরসূচি পরিবর্তন হয়েছে। অন্যথায় সোমবারই সিলেটে পৌঁছানোর কথা ছিল। আজ (মঙ্গলবার) সুনামগঞ্জে নিরাপদ অভিবাসনবিষয়ক একটি জরুরি মতবিনিময় সভা রয়েছে। যেহেতু সুনামগঞ্জ যেতে হবে, তাই সিউকের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সম্ভব হবে না। এর বাইরে অন্য কোনো কারণ নেই।’

সিউকের আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, আজ বেলা ১টায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও কার্যালয়ের উদ্বোধন হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরকে। উদ্বোধক হিসেবে থাকবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, সিলেট বিএনপিতে খন্দকার মুক্তাদীর ও আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব নির্বাচনের আগে থেকেই দৃশ্যমান। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের তৎপরতা বেড়েছে। তাদের ভাষ্য, সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। শেষ পর্যন্ত এবারের নির্বাচনেও মুক্তাদীরকে সিলেট-১ আসনে এবং আরিফুল হক চৌধুরীকে সিলেট-৪ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। বিএনপি সরকার গঠন করলে দুজনই মন্ত্রী হন।

নির্বাচনের পরও স্থানীয় রাজনীতিতে দুজনের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে বলে দলটির নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি। সিলেট সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিজেদের ঘনিষ্ঠদের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও উভয়পক্ষের তৎপরতা রয়েছে বলে তাদের ভাষ্য। এ ক্ষেত্রে খন্দকার মুক্তাদীরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হওয়াকে উদাহরণ হিসেবে দেখছেন তার অনুসারীরা। একইভাবে আরিফুল হক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদেরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করছেন তারা।

খন্দকার মুক্তাদীর ও আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যে কথিত রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়টি গত জুনেও আলোচনায় আসে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে বদলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের পর নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। কুমিল্লার মুহা. রেজা হাসানকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি যোগদানের আগেই ওই নিয়োগ স্থগিত হয়। পরে আইসিটি বিভাগের উপসচিব আবদুল্লাহ আল মামুনকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রায় দুই মাস পর সিউকের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে কথিত রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের অনুসারী হওয়ায় আরিফুল হক চৌধুরীকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তার অনুসারীদের একাংশ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ‘তাকে (আরিফুল হক চৌধুরী) যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে প্রটোকল অনুযায়ীই অতিথি করা হয়েছে। আমি নিজে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তাকে দাওয়াত দিয়েছি। তিনি অনুষ্ঠানে থাকার বিষয়ে সম্মতি দেওয়ায় চিঠিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার সফরসূচিতেও সিউকের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সফরসূচি পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। আমি এখনো জানি, তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।’