Advertisement

আ.লীগ নেতার ভবনে সরিষাবাড়ি থানা, শহরজুড়ে তোলপাড়

এশিয়া পোস্ট নিউজ, জামালপুর
আ.লীগ নেতার ভবনে সরিষাবাড়ি থানা, শহরজুড়ে তোলপাড়
সরিষাবাড়ি থানার দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন একটি ভবনে। ছবি : এশিয়া পোস্ট

জামালপুরের সরিষাবাড়িতে নতুন থানা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় অস্থায়ীভাবে থানার দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়েছে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির মালিকানাধীন একটি ভবনে। আর এতেই উপজেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

Advertisement

স্থানীয়দের একাংশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসন করতেই প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও পুলিশ প্রশাসনের দাবি, বিকল্প উপযুক্ত ভবন না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই ওই ভবন ভাড়া নিতে হয়েছে। সরিষাবাড়ি থানার জন্য ভাড়া নেওয়া ভবনটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ ছানোয়ার হোসেন বাদশার মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, সবিষাবাড়ি মডেল মসজিদের পাশেই ভাড়া নেওয়া হয়েছে থানার জন্য ভবন। আগের জায়গায় নতুন ভবনের নির্মান কাজ শুরু করা হবে। সেই কারণে নিজস্ব জায়গায় খালি করতেই পুরাতন ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখন অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনা করতে দুই বছরের জন্য তিন তলার একটি ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছে। সেই ভবনের প্রতি মাসের ভাড়া ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। গত ১ মে থেকে সেই ভাড়া ভবনে থানার অফিসিয়াল কাজ শুরু করা হয়েছে। ভবনটির মালিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ ছানোয়ার হোসেন বাদশা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরিষাবাড়ি উপজেলা শহরে অনেক ভবন রয়েছে। কিন্তু সেইসব না নিয়ে আওয়ামী লীগের একজন নেতার ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছে। যে নেতা জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া থেকে শুরু করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সকল অ্যাজেন্ডা সরিষাবাড়িতে বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিলেন। সেই নেতার ভবন ভাড়া নিয়ে পুলিশ তাদের থানার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এটা নেওয়ার উদ্দেশ্য কি? এনিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জুলাই আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার দেশ থেকে পালালেও তাদের দোসররা এখনও রয়েই গেছে। এত আন্দোলন, এত জীবনের বিনিময়েও দেশ স্বৈরচার মুক্ত হয়নি। বিভিন্ন দপ্তরে এখনও তাদের দোসররা ঘাপটি মেরে আছে। আর তারাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাঁচানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তা না হলে এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ভবন ভাড়া নিয়ে থানার কার্যক্রম চালাননা। আমাদের সরিষাবাড়িতে ভবনের অভাব নেই। অন্য যেকোনো ভবন ভাড়া নিতে পারতেন পুলিশ প্রশাসন।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম ভিপি শহীদ বলেছেন, সবকিছুতেই আঁতাতের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। একজন নির্বাচনের আগে থেকেই আতাৎ শুরু হয়েছে। তা না হলে একজন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসর চিহ্নিত আওয়ামী লীগের ভবনে থানা পরিচালনা করার কথা না। আওয়ামী লীগের সভাপতির ভবনে থানার কার্যক্রম চলছে এটা মেনে নেওয়ার মতো না। এসব দেখে মনে হয় প্রশাসন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম-সদস্য সচিব মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রশাসনকে এই দায়িত্ব নিতে হবে। যদি এর বিনিময়ে তাকে শেল্টার দেয়, তিনি যদি শেল্টার পায়, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়। সেটার বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকবো, প্রতিবাদ করবো।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ি থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, পুরাতন ভবন তো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। আরও কিছুদিন লাগবে। আমরা নতুন ভবনে আসছি। এই মাসের শুরুর দিকেই উঠা হয়েছে। শহরের প্রধান সড়কে সরিষাবাড়ি মডেল মসজিদের পাশেই এখন থানা ভবন। এক সময় আওয়ামী লীগের ছানোয়ার হোসেন বাদশা সাহেবের বিল্ডিং ছিল। তিনতলা ভবনের সম্পূর্ণটাই ভাড়া নেওয়া হয়েছে। আমাদের নতুন ভবন করতে হয়ত দুই-আড়াই বছর বা কমবেশি লাগতে পারে।

আওয়ামী লীগ নেতার ভবনে একটি প্রশাসনিক কার্যালয় করাকে স্থানীয়রা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পুনর্বাসন অভিযোগ তুলছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনি যেভাবে বলছেন, আমি তো সেভাবে বলতে পারবো না। তখন যারা ডিট করেছেন উনারা কি প্রেক্ষিতে করেছেন, এখানে কোনো ভবন পায়নি হয়ত। কোথাও না পাওয়ার কারণে নিরুপায় হয়ে করতে পারে। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত বলতে পারবো না, আপনি পুলিশ অফিসে যোগাযোগ করেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল কবির তালুকদার এমপি বলেন, ক্যাম্প হিসেবে থাকবে কিছুদিন। ওইটা না হওয়া পর্যন্ত। একটা জায়গায় তাদের স্থানান্তর করতে হবে। যারা এগুলো বলছে, তাদেরকে বলেন একটা ভবন দিতে, তাহলে ওই ভবন ছেড়ে দিয়ে অন্য জায়গায় চলে যাবে। ভাড়া নিয়েছে আমার ইলেকশনেরও আগে। যখন উঠে, তখন আমাকে জানিয়েছে, এই ভবনে উঠতেছি।

তিনি আরও বলেন, এটা আমি দলীয় কোনো দৃষ্টিতে দেখছি না। এটা তাদের দরকার, আর তারা আমার কোনো মতামত নেয়নি। এসপি সাহেবও বোধ হয় এসে দেখে গেছেন, অ্যাডিশনাল এসপি এসে দেখে গেছেন, এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে। এটা পাবলিক বা রাজনৈতিক কোনো বিষয় না যে, আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করে করবেন। এটা আমার নির্বাচনের আগেই তারা করছেন।

এ বিষয়ে জামালপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন এন্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, সরিষাবাড়িতে দ্রুত থানা নির্মাণ করতে হবে। অন্য কোথাও ভবন না পাওয়ায় স্থায়ীভাবে সেখানে নেওয়া হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলেই সেখানে চলে যাবে। থানা যদি জায়গা না পায়, তাহলে মানুষের সেবার বিঘ্ন ঘটবে।