logo

‘ভাড়ায় খাটা’ জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসী সাদ্দাম গ্রেপ্তার

‘ভাড়ায় খাটা’ জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসী সাদ্দাম গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম মহানগরী ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকার আলোচিত সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোসেন ওরফে ‘গলাকাটা বাচা’কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৭)। সাদ্দাম ‘শিবির সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, সাজ্জাদ বাহিনীর ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ হিসেবে তিনি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, ছিনতাই এবং জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ ভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে সীতাকুণ্ডের দক্ষিণ সলিমপুর এলাকা থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন।

গ্রেপ্তারকৃত সাদ্দাম হোসেন নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফিন নগর এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে।

পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধীর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সাদ্দামের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, চুরি, মাদক কারবার, ছিনতাই, নাশকতা, ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য থানাগুলো হলো পাঁচলাইশ, চকবাজার, ডবলমুরিং, বায়েজিদ বোস্তামী, আকবর শাহ এবং সীতাকুণ্ড।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাজ্জাদ ছাড়াও অনেকের হয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায় সাদ্দাম। একসময় জঙ্গল সলিমপুরের ইয়াসিন আলীর গ্রুপে ছিল সাদ্দাম। ২০২৪ সালের পরে ৫ আগস্টের পর উত্তর জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন মেম্বারের গ্রুপে যোগ দেয়। রোকন মেম্বার জঙ্গল সলিমপুরে সুবিধা করতে পারছিল না দেখে আবার আগের গ্রুপে যোগ দেয় সাদ্দাম। কিছুদিন আগে তাকে ওই গ্রুপ থেকেও বের করে দেওয়া হয়।

জঙ্গল সলিমপুরের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সাদ্দাম ভয়ংকর সন্ত্রাসী। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। যা খুশি করে। মূলত সে ভাড়ায় খাটে। যখন যে থাকে তার সঙ্গে মিলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়।’

র‍্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, সাদ্দাম পলাতক ছিল। সীতাকুণ্ড এলাকায় অবস্থান করছে খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে দক্ষিণ সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালায় র‍্যাব। টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ মডেল থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।