যশোরে আদালত প্রাঙ্গণে বাদী-বিবাদী পক্ষের মারামারি

যশোরের আলোচিত প্রতারক মাহমুদা কাণ্ডকে ঘিরে এবার আদালত ভবনের ভেতরে ভুক্তভোগী ও মাহমুদার স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) শ্লীলতাহানি ও পাল্টাপাল্টি মারধরের অভিযোগে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এজলাসের সামনে থেকেই শুরু হয় কথাকাটাকাটি। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহমুদার ভাই ভুক্তভোগী এক নারীর শ্লীলতাহানি করেন। এ সময় অন্যরা এসে পাল্টা হামলা চালান। এতে মাহামুদার ভাই সিঁড়িতে পড়ে আহত হন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে কোর্ট পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মারামারির ঘটনায় দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করে তাৎক্ষণিক আদালতে সোপর্দ করে।
আদালত প্রঙ্গণে মারামারির ঘটনায় পুরাতন কসবার বাসিন্দা ইমরানকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল ইসলাম। একই সঙ্গে ঘোপ জেলরোড এলাকার তালজিলা রহমান ও শেখহাটির ইন্নাতুল হাসানকে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেন। এদিন আদালত মাহমুদার এক দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ফাইনারা বর্না বলেন, সোমবার মাহমুদার বিরুদ্ধে করা একটি মামলার রিমান্ড শুনানি ও জামিন আবেদনের দিন ধার্য ছিল। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এজলাস থেকে বের হওয়ার পর সিঁড়ির কাছে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে মারামারিতে রূপ নেয়। পরে এ ঘটনায় আদালত একজনকে সাজা দেন এবং দুজনকে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেন।
কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ৭ মার্চ মাহমুদাকে ভুক্তভোগীরা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ওই দিনই থানায় একটি মামলা করা হয়। পরদিন আদালতে আরও আটটি মামলা এবং তার পরের দিন আরও একটি মামলা হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।