যশোরে রানা প্রতাপ হত্যা : অস্ত্র-গুলিসহ দুই শুটার গ্রেপ্তার

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে দুটি নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে খুন হন বরফ কল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৫)। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই শুটারকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন উপজেলার বারান্দি পালবাড়ি এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহমুদ হাসান হৃদয় (২৮) এবং বারান্দি পূর্ব পাড়ার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে শামীম হোসাইন (৩১)। এ নিয়ে আলোচিত এই হত্যা মামলায় মোট চারজন আটক হলো। মামলা তদন্ত করছে যশোর ডিবি পুলিশ।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) আবুল বাশার শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য দেন।
তিনি বলেন, চরমপন্থী নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের পর এ পর্যন্ত মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে দুজনকে আটক করা হয়। যশোরের অভয়নগর উপজেলার বারান্দি পালবাড়ি এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহমুদ হাসান হৃদয় এবং বারান্দি পূর্ব পাড়ার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে শামীম হোসাইন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রাম থেকে মোহাম্মদপুর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন এবং একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজিব মোল্লাকে আটক করা হয়। রাজিবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের ডিবি পুলিশ হৃদয় ও শামীমকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ জানতে পেরেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডে প্রথম আটক হয় সাদ্দাম হোসেন নামে একজন চরমপন্থী। এ ছাড়া এ ঘটনায় আটক রাজিব, হৃদয় শামীমসহ সবাই পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। আর নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী ছিলেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা। রানা প্রতাপ বৈরাগী নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বী পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করতেন। এ ছাড়া ঘের দখল, জমি দখল, বাড়ি দখলসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতেন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নাম ভাঙিয়ে। এ বিষয়টি জানতে পারেন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা শিপন আহমেদ মুন্না। তিনি লোক মারফত রানা প্রতাপের কাছে সংবাদ পাঠিয়ে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলেন। কিন্তু রানা প্রতাপ তা শোনেননি। তিনি তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান। এতেই ক্ষিপ্ত হন আঞ্চলিক নেতা শিপন আহমেদ মুন্না। তিনি রানা প্রতাপ বৈরাগীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৫ জনুয়ারি পার্টির সদস্য শামীম ও সেলিমকে বাজারে পাঠান রানা প্রতাপ বৈরাগীর অবস্থান জানার জন্য। আর পার্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হৃদয়, রাজিব মোল্লা ও সূর্য একটি মোটরসাইকেল নিয়ে কপালিয়া বাজারে যান। ওই দিন সন্ধ্যার সময় কপালিয়া বাজারের ঝুমুর বিউটি পার্লারের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন রানা প্রতাপ। শামীম ও সেলিমের দেখানো মতে মণিরামপুরে তার কাছে যান হৃদয়, রাজিব ও সূর্য। কথা বলার এক পর্যায়ে তারা রানা প্রতাপকে গুলি করেন। মাথায় ও বুকে একাধিক গুলি লাগে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে চাকু দিয়ে গলায় আঘাত করে পালিয়ে যান তারা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত দুটি চরমপন্থি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মামলাটি তদন্ত করে যশোর ডিবি পুলিশ। পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তিনি তদন্ত করে এই মামলার মূল রহস্য উদ্ধার করেন। এই মামলায় হৃদয়, রাজিব, সেলিম ও শামীম আটক আছেন। পলাতক আছেন সূর্যসহ বেশ কয়েকজন। তাদের আটকের প্রস্তুতি চলছে।