সুনামগঞ্জে রাতের আঁধারে পাথর সরাচ্ছে কারা

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি আদেশের কাগজকে পুঁজি করে রাতের আঁধারে সুনামগঞ্জের ডলুরা চলতি নদীর পাড় থেকে পাথর সরানো হচ্ছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ডলুরা চলতি নদীর পশ্চিম পাড় থেকে পাথর নেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সম্মতিতে ডলুরা চলতি নদীর পশ্চিম পাড়ে জব্দ করা পাথর নিলামে বিক্রয় করা হয়। নিলামে কেনা ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩২ ঘনফুট পাথরের মধ্যে অবশিষ্ট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩২ ঘনফুট পাথর অপসারণের জন্য ৮টি শর্তে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত ৭ দিনের মধ্যে নিজ খরচে পাথর অপসারণের অনুমোদন দেওয়া হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ৭ নম্বর শর্তে উল্লেখ রয়েছে, রাতে কোনো পাথর অপসারণ করা যাবে না। অর্থাৎ সুর্যোদয় থেকে সুর্যাস্তের মধ্যে পর্যাপ্ত পাথর অপসারণ করতে হবে। কিন্তু জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সময়বৃদ্ধির কাগজকে পুঁজি করে শনিবার রাতের আঁধারে ২০-২৫টি ট্রাকে ভরে ডলুরার নদীর পশ্চিম পাড় থেকে পাথর নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
নদীর পাড় থেকে পাথর সরবরাহ করা মো. শাহজাহান স্থানীয় জানান, শনিবার রাতে তিনি সুনামগঞ্জে ছিলেন। রাতে পাথর বের হওয়ার সুযোগ নেই। দিনের অনুমতি নিয়ে দিনেই পাথর নেওয়া হয়েছে। রাতে পাথর সরানো বা নেওয়া হয়নি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মতিন খান বলেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সময়বৃদ্ধির কাগজে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, দিনে পাথর অপসারণ করতে হবে। শনিবার সন্ধ্যার পর ট্রাকে করে পাথর নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় থানার পুলিশ রয়েছে, বিজিবি আছে। ভবিষ্যতে যদি এমন হয় তাহলে পাথর অপসারণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, শনিবার রাতে পাথর সরানোর বিষয়টি আমাদের নজরে পড়েনি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নদীর তীর এলাকায় এসেছিলেন, তাই সেখানে পুলিশ গিয়েছিল। পাথর সরানোর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।