৫ ঘণ্টা অবরোধের পর নীলফামারীতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

নীলফামারীর ডোমারের মিরজাগঞ্জ রেলস্টেশনে তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি এবং এক নম্বর লাইনে ট্রেন চলাচলের দাবিতে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা আন্দোলন রেল কর্মকর্তার আশ্বাসে প্রত্যাহার করেছেন এলাকাবাসী। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। পরে চিলাহাটি রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেন থামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনে রকেট মেইল এবং ডোমার রেলওয়ে স্টেশনে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ে। প্রায় ৫ ঘণ্টা পর রেল কর্মকর্তার আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুরের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হাসান তাদের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে একটি আবেদন দেওয়া হলে দাবিগুলো বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।
আন্দোলনকারীরা জানান, মিরজাগঞ্জ রেলস্টেশনে তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের উভয়মুখী যাত্রাবিরতি এবং ১ নম্বর লাইনে ট্রেন চলাচল চালু করা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি। স্টেশনটিতে বর্তমানে যে ট্রেনটি থামে, সেটিও ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। এতে নারী, বয়স্ক ও সাধারণ যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানামায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
তাদের দাবি, মিরজাগঞ্জ রেলস্টেশনটি জোড়াবাড়ী ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ স্টেশনে পর্যাপ্ত ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা হলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন।
এর আগে, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে প্রায় পাঁচ শতাধিক এলাকাবাসী ও সাধারণ যাত্রী অংশ নেন। পরে রেল কর্মকর্তার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। এতে প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চিলাহাটি রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুরের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হাসান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, নতুন স্টপেজ চালু করতে কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। সেগুলো অনুসরণ করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এগোতে হবে। আর ১ নম্বর লাইনের স্টেশনে বর্তমানে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। আগে এখানে লোকবল নিয়োগ দিতে হবে। এরপর ট্রেন থামানোর প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।