logo

নওগাঁয় ৪ খুনের রহস্য উন্মোচন, লোমহর্ষক বর্ণনা দিল পুলিশ

নওগাঁয় ৪ খুনের রহস্য উন্মোচন, লোমহর্ষক বর্ণনা দিল পুলিশ

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। সম্পত্তির লোভে নিজ পরিবারের হাতে খুন হয়েছেন হাবিবুর রহমান ও তার পরিবার। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে দুজন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

এর আগে, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা জানাজানি হয়। নিহতরা হলেন—হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (৩০), ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) এবং মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।

পুলিশের তদন্ত ও আসামিদের জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, ঘটনার মূল কারণ ছিল জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ। নিহতের বাবা নমির মণ্ডলের পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে। সম্প্রতি নমির মণ্ডল তার সম্পত্তির একটি বড় অংশ ছেলে হাবিবুরকে লিখে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন হাবিবুরের বোন শিরিন ও ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলাম। এরপর থেকেই তারা হাবিবুর ও তার বাবাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে সম্পত্তি ভোগদখল করাই ছিল খুনিদের মূল লক্ষ্য।

জানা গেছে, গত সোমবার রাতে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। পুলিশ জানায়, খুনিদের মধ্যে সবুজ রানা ঘটনার রাতে তার নানা ও মামার বাড়িতেই রাতের খাবার খান। গভীর রাতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের নিয়ে তিনি মিশনে নামেন। প্রথমে ঘুমন্ত অবস্থায় হাবিবুর রহমানকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অন্য ঘরে দুই সন্তানসহ ঘুমানো পপি খাতুন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে এলে ওঁত পেতে থাকা ঘাতকরা তাকে খরকাটা হাসুয়া দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর ঘরে থাকা কিশোর পারভেজ ও শিশু সাদিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। খুনিদের উদ্দেশ্য ছিল পরিবারটিকে পুরোপুরি নির্বংশ করা।

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, নিহত পপি খাতুনের বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, চার খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহত হাবিবুর রহমানের ভগ্নিপতি আবদুস সামাদ ও তার ছেলে সবুজ রানাকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সকালে তারা বাহাদুরপুর গ্রামে আবদুস সামাদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে বাড়িটির আসবাবপত্রসহ বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায়। খবর পেয়ে নিয়ামতপুর থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।