শেরপুরে ধানের শীষের এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে

শেরপুরে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্টকে মারধর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের কর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া-বালুরঘাটের নামাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতের নাম গিয়াস উদ্দিন রাসেল মিয়া। তাকে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
গিয়াস উদ্দিন রাসেল শেরপুর-১ (সদর) আসনে হেরুয়া বালুরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার ধানের শীষ প্রতীকের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ছিলেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাসেল বলেন, আমি বিএনপি করি, ধানের শীষের নির্বাচনি এজেন্ট ছিলাম, এ কারণেই আমার ওপর জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালিয়েছেন। জামায়াত সমর্থক চরশেরপুর ইউনিয়নের তালুকপাড়া গ্রামের কেরামত, জামাল, সোহেল, মনির ও তার ভাইয়ের নেতৃত্বে ১২-১৩ জন মিলে আমার ওপর এ হামলা চালিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি শহর থেকে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে একটি মোটরসাইকেলে তিনজন আমার পিছু নেয়। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগে নামাপড়া এলাকায় আসার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা ৮-৯ জন আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। তারা সবাই মিলে আমার ওপর হামলা চালান। আমি প্রাণ বাঁচাতে একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে গিয়েও আমাকে মারধর করেন।
ঘটনার পর শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাহাতসহ বিএনপি নেতারা গিয়াস উদ্দিনকে দেখতে হাসপাতালে যান।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, জামায়াতের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রাসেলের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান বিএনপির প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। এ ঘটনায় জামায়াতের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।