চাঁদা না পেয়ে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদীতে চাঁদা না পেয়ে ফল ব্যবসায়ী জালাল রাঢ়ীর লিজের চান্দিনা ভিটি দখলের অভিযোগ উঠেছে মাহিলাড়া ইউনিয়ন বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীর স্ত্রী সীমা বেগম বাদী হয়ে ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত তিন নেতা হলেন—মাহিলাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সজল সরকার, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাফর ইকবাল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ সরদার।
সীমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী জালাল রাঢ়ী গত ১৫ বছর আগে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে লিজ নিয়ে মাহিলাড়া বাজারের একটি চান্দিনা ভিটিতে গোডাউন নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। সরকারি বিধিমোতাবেক প্রতি বছরই তিনি ওই চান্দিনা ভিটির লিজের টাকা উপজেলা ভূমি অফিসে রাজস্ব খাতে দিয়ে নবায়ন করে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দোকান ঘরটি ভেঙে ফেলা হলে সেটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ওই চান্দিনা ভিটিতে আমার স্বামী নতুন করে দোকান নির্মাণের কাজ শুরু করলে স্থানীয় বিএনপি নেতা সজল সরকার, জাফর ইকবাল ও বায়েজিদ সরদার আমাদের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে রাজি না হলে অভিযুক্তরা তাদের সহযোগীদের নিয়ে খুঁটি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ডিসিআরকৃত আমাদের চান্দিনা ভিটিটি দখল করে রাখে।
এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও অবহিত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ভয়ে তার স্বামী প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলেও সীমা বেগম উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাজারের ইজারাদার মাহিলাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সজল সরকার ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ সরদার চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, ওই চান্দিনা ভিটিতে বাজারের গভীর নলকূপ স্থাপন করে প্রায় ২০ ফুট দূরত্বে সরিয়ে নলকূপের হেড বসানো হয়েছে। তাই ওই ডিসিআর বাতিল করার জন্য বাজারের ইজারাদারের পক্ষ থেকে এসিল্যান্ডের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কেউ যাতে ওই ভিটিতে ঘর তুলতে না পারে সেজন্যই বাঁশের বেড়া দিয়ে রাখা হয়েছে।
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাফর ইকবাল বলেন, ঢাকা থেকে বাড়িতে গেলে জানতে পারি চান্দিনা ভিটি নিয়ে জালাল রাঢ়ী ও বাজারের ইজারাদার সজল সরকারের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয়পক্ষকে ডাকা হলে জালাল রাঢ়ী আমার ডাকে সাড়া দেয়নি। এরপর কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, মাহিলাড়া বাজারের ওই চান্দিনা ভিটিটি ডিসিআর নেওয়ার জন্য একাধিক ব্যক্তি আবেদন করেছিলেন। তবে ভিটিটি জালাল রাঢ়ীর নামে আগেই ডিসিআর ছিল। তাই এবছরেও তার নামেই নবায়ন করে দিয়েছি।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




