ইয়াবাসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

পাবনায় ১৫০ পিস ইয়াবাসহ যুবদল নেতা কুতুব উদ্দিন বিশ্বাসসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম রাশেদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে চরতারাপুর ইউনিয়নের বাক্সীডাঙ্গী গ্রামের মুজিব বাঁধসংলগ্ন খালের দক্ষিণ পাশে বিএডিসির সেচপাম্প ঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চরতারাপুর ইউনিয়নের শুকচর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বিশ্বাসের ছেলে কুতুব উদ্দিন বিশ্বাস (৩০), বাক্সীডাঙ্গী গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান শেখের ছেলে মোতাহার হোসেন শেখ এবং ইয়াছিন ওরফে ইছিন (৩৫)। এরমধ্যে কুতুব উদ্দিনকে ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক এবং মোতাহার হোসেন মুতাই চরতারাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া ইয়াসিনকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে খবর পাওয়া যায় যে সেচপাম্প ঘরে কয়েকজন মাদক কারবারি ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ডিবির একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন ও জব্দ তালিকার সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে মোতাহার হোসেনের কাছ থেকে ৫০ পিস, কুতুব উদ্দিনের কাছ থেকে ৫০ পিস এবং ইয়াছিনের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার মোট ওজন ১৫ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চরতারাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকসেবীদের কাছে বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন। তাদের তিনজনকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে চরতারাপুর ইউনিয়নের শুকচর গ্রামে কলেজছাত্র সোহাগ ইসলামকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ উঠেছিল মোতাহার হোসেন ও কুতুব উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় সোহাগের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম অন্তু বাধা দিতে গেলে তাকে গুলি করার অভিযোগও ওঠে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোহাগের বাবা সাবেক ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেন তোফাই দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রি করে বাড়িতে টাকা রাখা হয়েছিল। ওই টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সোহাগকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয় বলে তারা দাবি করেন।
সোহাগ ইসলাম তখন জানিয়েছিলেন, রাত ১১টার দিকে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় কুতুব কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে রাত ৪টার দিকে পুলিশ অভিযান চালালে প্রশাসনের চাপের মুখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গুলিবিদ্ধ রফিকুল ইসলাম অন্তুর মা মোছা. মায়া খাতুন অভিযোগ করেছিলেন, ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সোহাগকে অপহরণ করা হয়। তার ছেলে বাধা দিতে গেলে প্রথমে শর্টগান দিয়ে আঘাত এবং পরে গুলি করা হয়। তার মাথায় গুলি রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
তৎকালীন পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানিয়েছিলেন, অপহরণের খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। পরে পুলিশের চাপের মুখে সোহাগকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তদের আটক করা সম্ভব হয়নি। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

