logo

মিলাদের বিরিয়ানি নিয়ে তর্ক, যুবককে পেটালেন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি

মিলাদের বিরিয়ানি নিয়ে তর্ক, যুবককে পেটালেন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি

ঢাকার সাভারে একটি মসজিদে মিলাদের খাবার নিয়ে তর্কের জেরে এক যুবককে মারধর করেছেন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি। ঘটনা জানিয়ে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হোসেন সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমবাগান এলাকার কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ঘটনাটি ঘটে। মসজিদে মিলাদ উপলক্ষে মুসল্লিদের বিরিয়ানি বিতরণ করা হয়। বিরিয়ানি বিতরণ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে স্থানীয় দিনমজুর সুমন আলীকে মারধর করেন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মাজারুল হক বাবু। পরে সুমন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে শনিবার থানায় অভিযোগ দেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে সোমবার যোগাযোগ করা হয় মসজিদ কমিটির সভাপতি ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে। তিনি এশিয়া পোস্টকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার দিন আমি তাবলিগ জামাতে অন্য জায়গায় ছিলাম। গতকাল এসে বিষয়টি জানতে পারি। শুনেছি একজন মীমাংসা করে দিয়েছিল। গতকাল নাকি আবার পুলিশ এসেছিল। আমি আরও বিস্তারিত জেনে দেখি, কি করা যায়। মীমাংসা করা যায় কিনা।

ভুক্তভোগী সুমন আলী বলেন, ‘বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখি বিরিয়ানি না পেয়ে ছোট একটা শিশু কান্না করতেছে। তার জন্য বিরিয়ানি চাইতে গেলে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আমাকে থাপ্পড় দেখান, গালাগাল করেন। আমি অপমানিত হয়ে চলে আসি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিকেলে আছরের নামাজ পড়ে সেক্রেটারিকে বলি আমার সঙ্গে এমন না করলেও পারতেন। মিলাদের বিরিয়ানি কারও ব্যক্তিগত না, আমরা তো ভিক্ষা চাইতে আসিনি। আমাকে কেন অপমান করলেন। এ কথা বলতেই তিনি আমাকে বলেন, তোর মতো লোককে মারতে কি লাগে। গালাগালি করে তিনি আমাকে মারতে শুরু করেন। পাশে থাকা রড দিয়ে তিনি আমাকে পেটান। তার সঙ্গে আরও দুজন এসে তাকে সহযোগিতা করেন আমাকে মারতে। তিনি এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় এখন আমাকে জোর করে মিটমাট করতে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছেন।’

অভিযুক্ত মাজারুল হক বাবু বলেন, ‘মিলাদে প্রায় হাজারখানেক লোক হয়েছিল। নিচতলায় আমরা প্যাকেট দিচ্ছিলাম। বাহির থেকে ৫০/৬০ জন ধাক্কাধাক্কি করছিল। পেছন থেকে যারা বের হচ্ছিলেন সামাল দিতে পারছিলাম না। তখন ওই ছেলেটা একবার প্যাকেট নিয়ে আবার আসে খাবার নিতে। তখন আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আছরের নামাজ পরে মসজিদ থেকে নিচে নেমে দেখলাম ছেলেটা টালমাতাল। আমাকে বলছে তুই আমাকে ধাক্কা দিছস কেন? আমি বললাম, তুই সর তোর সাথে পরে কথা বলব। পরে কথা বলবি কেন? এ কথা বলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আমি যেহেতু মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি, এলাকার মোটামুটি মানুষের সবকিছু মেনটেইন করি, উপকার করি যতটুকু পারি। আমার খুব প্রেস্টিজে লাগল। রাগ সামলাতে না পেরে দোকানের সামনে একটা রডের সিক পেয়ে সেটা দিয়ে দুটি বাড়ি দিয়েছি। পরে তাকে এক-দুটি চড়-থাপ্পড় দিয়ে সরিয়ে দিয়েছি।’

আশুলিয়া থানার এসআই মো. হোসাইন বলেন, ‘তদন্তে গিয়ে জানতে পারি ভুক্তভোগী খাবার চাইতে গেলে ধমক দেওয়া হয় এবং থাপ্পড় দেখানো হয়। পরে ভুক্তভোগী মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির কাছে জানতে চাইলে তাকে মারধর করা হয়। উভয় পক্ষ বলেছে স্থানীয়ভাবে তারা বিষয়টি মীমাংসা করবে।’