logo

‘এখন শুধু স্বামীর লাশটা যেন দেশে আনা হয়’

‘এখন শুধু স্বামীর লাশটা যেন দেশে আনা হয়’

দুই বছর আগে প্রবাসে পাড়ি জমান কাউছার হোসেন। পরিবারে আছে মা-বাবা, স্ত্রী ও তিন কন্যা। একটি দুর্ঘটনা পরিবারের সবাইকে প্রতিদিন কাঁদাচ্ছে। কাজে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন কাউছার।

শনিবার (৪ এপ্রিল) চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া গ্রামে কাউছারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণ একটি টিনশেডের ঘরে পরিবারের সদস্যরা। সবাই কেমন যেন হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন।

স্বামীর মরদেহ দেশে কবে আসবে—জানেন না কাউছারের স্ত্রী জান্নাত আক্তার। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাদের সাজানো সংসার তছনছ হয়ে গেছে। এখন শুধু স্বামীর লাশটি যেন দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে যান কাউছার। গত ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন তিনি। স্থানীয় রুস্তাক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার (১ এপ্রিল) তার মৃত্যু হয়।

কাউছারের স্ত্রী জান্নাত আক্তার বলেন, তিনি আমার স্বামী আমাদের জন্য প্রবাসে গিয়েছিল। এখন আমরা অসহায় হয়ে গেছি। আমার তিনটি মেয়ে প্রতিদিন বাবার জন্য কাঁদে। আমি শুধু চাই, তার মরদেহ দেশে এনে দাফন করতে পারি।

কাউছারের বাবা আমির হোসেন জানান, ঋণ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি। এখন সেই ঋণের বোঝা ও ছেলের মৃত্যুর শোক দুই মিলিয়ে তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

জানতে চাইলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড চাঁদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফয়সাল এশিয়া পোস্টকে বলেন, পরিবারটি নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করলে সরকার মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করবে।