মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে ১৭ দিনে পা হারালেন চারজন

কক্সবাজারে উখিয়ার পালংখালী সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীতে মাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে পালংখালী ইউনিয়নের নাফ নদের ১৯ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মোহাম্মদ ইউনুছ উখিয়ার থাইংখালী ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-২ ব্লকের বাসিন্দা সবুল হকের ছেলে।
এ নিয়ে গত ২৯ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ১৭ দিনে উখিয়ার বালুখালী ও পালংখালী সীমান্তে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে পা হারালেন চার রোহিঙ্গা নাগরিক।
বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকালে পালংখালী সীমান্তের নাফ নদীতে মোহাম্মদ ইউনুছসহ স্থানীয় কয়েকজন জেলে মাছ ধরতে যায়। একপর্যায়ে নাফ নদী সীমান্তের শূন্যরেখায় মিয়ানমার অভ্যন্তরে আকস্মিক বিকট শব্দে মাইন বিস্ফোরণ হয়। এতে মোহাম্মদ ইউনুছের ডান পা ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য লোকজন ইউনুছকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংয়ে এমএসএফ হাসপাতালে নেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান।
বিজিবির এ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঘটেছে। আমরা বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছি এবং সীমান্ত এলাকায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১০ এপ্রিল উখিয়ার বালুখালী সীমান্তে বিআরএম-২১ পিলার সংলগ্ন এলাকায় নাফ নদে মাছ ধরতে গিয়ে মো. সাদেক নামের এক রোহিঙ্গা যুবক স্থলমাইন বিস্ফোরণে পা হারান। তিনি উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের এফ-১৩ ব্লকের বাসিন্দা।
গত ২৯ মার্চ পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী সীমান্তে নাফ নদের শূন্যরেখায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে আব্দুল হাকিম নামের এক রোহিঙ্গা কিশোর গুরুতর আহত হয়। একইভাবে ২৬ মার্চ আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে আরেকটি বিস্ফোরণে মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম নামের এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়।