বনদস্যু আতঙ্কে দুবলার চরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন জেলেরা

বনদস্যু আতঙ্কে সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলার চরের দশ সহস্রাধিক শুঁটকিকরণ জেলে সাগর ও নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে তারা মাছ ধরা বন্ধ করেন। এর আগে সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। ফলে জেলেদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগও রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় রয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তাহীনতার কারণে জেলেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বনদস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় তারা মাছ ধরা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক জেলে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
তিনি জানান, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে চারটি দস্যু চক্র সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। টাকা দিতে না পারলে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত চার জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
২০১৮ সালে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হলেও বর্তমানে আবারও দস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, গত ১৫ দিনে বহু জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে কমপক্ষে শতাধিক জেলে দস্যুদের কব্জায় রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের সঙ্গেও এখনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগ রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের চাপে পড়েছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, জেলেরা পাস না নেওয়ায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান জানান, বনদস্যু আতঙ্কে কোনো জেলে স্টেশন অফিস থেকে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেন না। এতে মাসিক রাজস্ব টার্গেটে বড় প্রভাব পড়ছে।
অন্যদিকে, জেলেদের সাগরে না যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও প্রভাব পড়েছে। শরণখোলা বাজারের ব্যবসায়ী জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর ও রিপন হাওলাদারসহ কয়েকজন মুদি দোকানি জানান, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় তাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা।