logo

ওসির ‘সুনজরে’ চোরাকারবার, ভাইরাল অডিও ঘিরে তোলপাড়

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, নেত্রকোনা
ওসির ‘সুনজরে’ চোরাকারবার, ভাইরাল অডিও ঘিরে তোলপাড়
চোরাই পণ্য জব্দের পর টাকা দাবি করা এসআই আবু হানিফা। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় চোরাকারবারিদের সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততা সামনে এনেছে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুইটি অডিও ক্লিপ। সরাসসি থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ‘সুনজরে’ চোরাকারবার সংঘটিত—এক কারবারির এমন দাবির পর শুরু হয়েছে তোলপাড়। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

ঘটনার সূত্রপাত কলমাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফার (কণ্ঠসদৃশ) সঙ্গে জসিম উদ্দিন নামে এক চোরাকারবারির ফোনালাপ নিয়ে। বুধবার (৬ মে) রাতে তাদের কথোপকথনের দুইটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে।

অডিও ক্লিপ ও পুলিশের সম্পৃক্ততা

পাঁচ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের একটি অডিওতে জসিমকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেব। আপনি আমাকে মামলা দেবেন না। শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন।’

জবাবে এসআই আবু হানিফা বলেন, ‘না ভাই, যা বলছি তার কম হবে না। আপনি তিন লাখ টাকা দেন।’

একপর্যায়ে জসিম বলেন, ‘এক লাখ টাকা দেব। ওসি স্যার কিন্তু বিপক্ষে যাবে না। ওসি স্যার বলছেন, যেহেতু আমাকে জানিয়ে আপনারা এই ব্যবসা করছেন, এটা নিয়ে দারোগার সঙ্গে কথা বলেন।’

জানতে চাইলে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিক হোসেন নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার বলেন, ‘এসব ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।’

জব্দ পণ্য নিয়ে লেনদেন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে কমলকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায়। সেখানে একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করা হয়। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে ছিল বডি স্প্রে, শ্যাম্পু ও অলিভ অয়েল।

এ সময় পিকআপ চালক নাজিরপুরের শিংপুর গ্রামের নাছিম ও তার সহকারী সেইচাহানি গ্রামের মনির হোসেনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলার রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়। জসিমকে চোরাই পণ্যের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

এই ঘটনা কেন্দ্র করে কমলকান্দা থানার এসআই আবু হানিফা ও চোরাই পণ্যের মূল হোতা জসিমের সঙ্গে ফোনে কথোপকথন হয়। ছড়িয়ে পড়া এ সংক্রান্ত দ্বিতীয় অডিওটি তিন মিনিট ১২ সেকেন্ডের।

এতে এসআই আবু হানিফাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি যা করবেন, তাড়াতাড়ি করেন। আমি এখন ভবানীপুর ব্রিজ পার হচ্ছি। আপনার জন্য আমি ছাড় দিলাম, আড়াই লাখ টাকা নিয়ে আসেন।’

জবাবে জসিমকে বলেন, ‘আমি কষ্ট করে হলেও আপনাকে দুই লাখ টাকা দিচ্ছি। আমাকে একটু সময় দেন।’

একপর্যায়ে এসআই আবু হানিফা বলেন, ‘দেইখেন, হোয়াটসঅ্যাপের কথা অন্য ফোনে রেকর্ড করা যায়, এটা করবেন না।’

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাষ্য

দুটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফকে কমলকান্দা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে এসআই আবু হানিফা ও জসিম উদ্দিনের ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা কল রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) তরিকুল ইসলাম বলেন, তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত সব তদন্তে উঠে আসবে। অডিওটি নজরে আসার পর এসআই আবু হানিফাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলমাকান্দা থানার ওসি সিদ্দিক হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। চোরাই পণ্যের মালিক জসিম মিয়াকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।